back to top

[the_ad id="407"]

ঝুঁকিপূর্ণ কমিউনিটি ক্লিনিক, ভাঙা সেতু ও কাঁচা সড়কে দুর্ভোগে কয়েক গ্রামের মানুষ

কবির হোসেন, কাপ্তাই প্রতিনিধিঃ

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার চিৎমরম ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পেকুয়া ও চাকুয়াপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্কসহ নানা মৌলিক নাগরিক সেবায় সংকট বিরাজ করছে। ভাঙা সেতু ও কাঁচা সড়কের কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রোগী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পেকুয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং দরজা-জানালার অবস্থাও নাজুক। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে স্বাস্থ্যসেবা নিতে এসে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হচ্ছে।

পেকুয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের দায়িত্বশীল মাসাইচিং মারমা বলেন, ক্লিনিক ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি যোগাযোগব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় স্থানীয়রা স্বাস্থ্যসেবা নিতে নানা সমস্যায় পড়ছেন। গুরুতর অসুস্থ রোগীদের কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিতে সময় ও অর্থ—দুই-ই বেশি ব্যয় হচ্ছে।

স্থানীয় ৩২৬ নম্বর পেকুয়া-চাকুয়াপাড়া হেডম্যান মিসেস সানুচিং মারমা বলেন, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও দুর্গম এ এলাকার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও নেটওয়ার্ক—প্রায় সব ক্ষেত্রেই মানুষ পিছিয়ে রয়েছে। বিশেষ করে সড়ক ও সেতুর অবস্থা অত্যন্ত নাজুক।

তিনি বলেন, কেউ গুরুতর অসুস্থ হলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ভাঙা সেতু ও কাঁচা সড়কের কারণে রোগীদের দুর্গম পথ পাড়ি দিতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ ও আবেদন করেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি।

স্থানীয় কারবারি উচসু মারমা, উসাচিং কারবারী ও মংসুই কারবারী এবং পেকুয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি লাব্রেঅং মারমা জানান, বর্ষাকালে এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা আরও দুর্বিষহ হয়ে পড়ে। অনেক স্থানে সাধারণ মানুষের হেঁটে চলাচল করাও কঠিন হয়ে যায়।

এদিকে, পেকুয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের বিষয়ে কাপ্তাই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শিক্ষক নিয়োগ হলে ওই এলাকায় আরও শিক্ষক দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

চিৎমরম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওয়েশ্লিমং মারমার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের দাবি, দুর্গম এই জনপদের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ কমিউনিটি ক্লিনিক ভবন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, ভাঙা সেতু ও কাঁচা সড়ক সংস্কার এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সেবার পরিধি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

সর্বশেষ

আরও খবর >

- Advertisement -Newspaper WordPress Theme