চট্টগ্রাম বিআরটিএ’র কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের ঢালাও অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ সিএনজি অটোরিকশা হালকাযান পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন। সোমবার নগরীর কাজীর দেউড়ীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা এই অভিযোগ তুলেন।
তবে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত এসব গুরুতর অভিযোগের সমর্থনে কোনো সুনির্দিষ্ট নথি, লেনদেনের রসিদ, সংশ্লিষ্ট গাড়ির তথ্য,স্থির চিত্র বা ভিডিও ফুটেজ কিংবা প্রত্যক্ষ কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি অভিযোগকারীরা।
প্রমাণ ছাড়া এমন ঢালাও অভিযোগ করায় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অভিযোগের সত্যতা ও এর পেছনের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। প্রশ্নের তোপে এক পর্যায়ে তারা সৎ উত্তর দিতে না পেরে হৈচৈ হট্টগোল শুরু হয়ে যায়। গুঞ্জন উঠেছে, এই অভিযোগের নেপথ্যে কোনো ব্যক্তিস্বার্থ বা অন্তর্নিহিত অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কিনা। যদিও সংবাদ সম্মেলন থেকে সংগঠনের প্রতিনিধিরা একটি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের সত্যতা ও ভিত্তি নিয়ে ফোনে প্রশ্ন করা হলে বাংলাদেশ সিএনজি অটোরিকশা হালকাযান পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন বলেন, “আমরা সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই কথা বলছি। তবে তাৎক্ষণিকভাবে সব প্রমাণ সংবাদ সম্মেলনে দেখানো সম্ভব হয়নি। আমরা চাই নিরপেক্ষ তদন্ত হোক; তদন্তেই আসল সত্য বেরিয়ে আসবে।”
এদিকে স্থানীয় সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগ যদি সত্য হয় তবে উপযুক্ত প্রমাণের ভিত্তিতে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। ঠিক একইভাবে, অভিযোগ যদি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়, তবে কোনো কর্মকর্তা বা ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার এবং তাকে হয়রানি করার দায়ে অভিযোগকারীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা প্রয়োজন।
ঘটনার সুষ্ঠু সমাধানের লক্ষ্যে বিআরটিএ’র মূল নথি, অনলাইন লেনদেন রেকর্ড, যানবাহনের অনুমোদন সংক্রান্ত ফাইল এবং কার্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনার জোরালো দাবি উঠেছে।
