ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার আল-হেরা একাডেমি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল মজিদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘ ৩৫ বছরের শিক্ষকতা জীবনের সমাপ্তিতে আব্দুল মজিদকে বিদায় জানাতে একত্রিত হন সহকর্মী, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং এলাকার অসংখ্য মানুষ। বিদায়ের ক্ষণে অনেকের চোখেই ছিল অশ্রু, কণ্ঠে ছিল কৃতজ্ঞতার কথা।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে বিদ্যালয় মাঠে এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯১ সালে ১৮ অক্টোবর প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল মজিদ যোগদান করেন। দীর্ঘ ৩৫ বছর একই প্রতিষ্ঠানে নিষ্ঠা, সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে শিক্ষকতা করার পর গত ৩০ সেপ্টেম্বর তার চাকরিজীবনের শেষ কর্মদিবস ছিল।
সহকারী শিক্ষক জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফজলুল হক শামীম এর সভাপতিত্ব প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহাঃ কামরুল হাসান মিলন।
এতে আরো বক্তব্য রাখেন, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া, আল ইহসান ট্রাস্টের সদস্য মাহবুবুর রশীদ ফরাজী, অত্র বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সদস্য আলহাজ্ব আব্দুর রাজ্জাক, আব্দুল কুদ্দুছ সিকদার, মোয়াজ্জেম হোসেন হুমায়ুন, মনাকুষা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা জালাল উদ্দীন, প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মাসুদুর রহমান তালুকদার, আলম এশিয়া পরিবহনের সভাপতি এসএম শাহজাহান, শিক্ষকের সন্তান আব্দুল্লাহ আল মুস্তাহিদ, কেআই সিনিয়র কামিল মাদরাসার উপাধ্যক্ষ তাজাম্মুল ইসলাম খান, সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু ওবায়দা বাবুল, অন্বেষণ উচ্চ বিদ্যালয় কৈয়ারচালার প্রধান শিক্ষক নিজামুদ্দিন খান, পলাশতলী আমিরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম কাজল, সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক খন্দকার লুৎফর রহমান, মহিলা ডিগ্রী কলেজের অধ্যাপক কামরুজ্জামান, সহকারী শিক্ষক নূরুল ইসলাম খান, মনোয়ার হোসেন খান, দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সদস্য আলামিন সাদাত, উপজেলা শিবিরের সেক্রেটারি মোহাম্মদ আলী হোসাইন, শিক্ষার্থী অভিভাবক হাবিবুর রহমান, সাবেক শিক্ষার্থী তানভীর আহমেদ সুমন, আব্দুল্লাহ আল নাহিদ প্রমুখ।
বিদায় অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। বক্তারা বলেন, আব্দুল মজিদ শুধু একজন শিক্ষক ছিলেন না, তিনি ছিলেন শিক্ষার্থীদের অভিভাবক, পথপ্রদর্শক এবং নৈতিক শিক্ষার এক উজ্জ্বল উদাহরণ। একজন শিক্ষকের প্রতি শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও সমাজের এমন অকৃত্রিম ভালোবাসা যেন আবারও প্রমাণ করল প্রকৃত শিক্ষক কখনও অবসরে যান না; তিনি বেঁচে থাকেন তার শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে, তাদের অর্জনে এবং অসংখ্য স্মৃতির পাতায়।
সংর্বধনা অনুষ্ঠানে মোঃ আব্দুল মজিদ বলেন, জীবনের ৩৫টি বছর আমি শিক্ষার্থীদের মাঝে কাটিয়েছি। আজ যে সম্মান, ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা পেয়েছি, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। একজন শিক্ষক হিসেবে এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কিছু হতে পারে না। আমি সবসময় চেষ্টা করেছি আমার শিক্ষার্থীদের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে। তারা যেন দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করে, সেটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।
তিনি আরও বলেন, আজকের এই ভালোবাসা, এই সম্মান আমি সারাজীবন হৃদয়ে লালন করব। আলহেরা একাডেমী বিদ্যালয় আমার কাছে শুধু একটি কর্মস্থল নয়, এটি আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর অধ্যায়।
অধ্যক্ষ কামরুল হাসান মিলন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতাদের স্বরণ করে বলেন, আব্দুল মজিদ এখন সারা ফুলবাড়ীয়ার শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করতে পারবেন। প্রতিশ্রুতি দেন, উপজেলার রাস্তাঘাট সহ দৃশ্যমান উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। মহাল আল্লাহর ইচ্ছায় প্রতিষ্ঠানকে এ পর্যন্ত নিয়ে আসা হয়েছে। এসময় তিনি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকালীর সময়ে অবদান রাখা ব্যক্তিদের স্মরণ করেন।
এর আগে প্রধান শিক্ষকের কর্মজীবনের কৃতিত্ব স্বরূপ মানপত্র পাঠ করেন সহকারী শিক্ষক নজরুল ইসলাম। পরে বিদায়ী প্রধান শিক্ষককে তা প্রদান করা হয়।
