back to top

[the_ad id="407"]

যুদ্ধবিরতির ৩ দিনে গাজায় ঢুকলো আড়াই হাজার ত্রাণবাহী ট্রাক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

গাজায় যুদ্ধবিরতি শুরু হয় স্থানীয় সময় গত রবিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে। এরপর ৩ দিনে অঞ্চলটিতে প্রবেশ করেছে প্রায় আড়াই হাজার ত্রাণবাহী ট্রাক। এর মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার প্রায় ৯০০টি ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশ করে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

বুধবার (২২ জানুয়ারি) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

গাজা এবং পশ্চিম তীরের জন্য জাতিসংঘের শীর্ষস্থানীয় সাহায্য কর্মকর্তা মুহান্নাদ হাদি বলেছেন, এখনও পর্যন্ত কোনো আইন-শৃঙ্খলার সমস্যা দেখা যায়নি। ছোটখাটো লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে, তবে ‘আগের মতো নয়’।

মঙ্গলবার ফিলিস্তিনি ছিটমহল পরিদর্শনের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “এটি সংঘবদ্ধ অপরাধ নয়। খাবারের ঝুড়ি নেওয়ার চেষ্টা করে শিশুরা কিছু ট্রাকে ঝাঁপিয়ে পড়ে। আরো কিছু লোক ছিল (যারা) বোতলজাত পানি নেওয়ার চেষ্টা করেছিল।”

“আশা করি গাজার মানুষ যখন বুঝতে পারবে যে, আমাদের সবার জন্য পর্যাপ্ত সাহায্য থাকবে, তখন কয়েক দিনের মধ্যেই এই সমস্যা দূর হয়ে যাবে।”

ইসরায়েল এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তির গ্যারান্টার- যুক্তরাষ্ট্র, মিশর ও কাতারের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের বরাত দিয়ে জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় অফিস (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, মঙ্গলবার ৮৯৭টি ত্রাণ ট্রাক গাজা উপত্যকায় প্রবেশ করেছে। এর আগের দিন সোমবার ৯১৫টি এবং যুদ্ধবিরতির প্রথম দিন রবিবার ৬৩০টি ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশ করেছিল গাজায়।

যুদ্ধবিরতির চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম ছয় সপ্তাহে প্রতিদিন কমপক্ষে ৬০০ ট্রাক ত্রাণ গাজার প্রবেশের অনুমতি দেওয়া প্রয়োজন, যার মধ্যে ৫০টি জ্বালানি বহনকারী ট্রাকও রয়েছে। এই ট্রাকগুলোর অর্ধেক গাজার উত্তরে যাওয়ার কথা, যেখানে দুর্ভিক্ষ আসন্ন বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

ওসিএইচএ মঙ্গলবার বলেছে, গাজায় মানবিক অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে- খাদ্য সহায়তা, বেকারি খোলা, স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, হাসপাতাল পুনঃস্থাপন, পানির লাইন মেরামত, আশ্রয়কেন্দ্র মেরামতের জন্য উপকরণ আনা এবং পরিবারগুলো পুনর্মিলন করা।

প্রসঙ্গত, ৩৬৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের গাজা উপত্যকায় বসবাস করেন প্রায় ২২ লাখ ফিলিস্তিনি। উপত্যকায় বেকারত্ব প্রকট এবং বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের এক তৃতীয়াংশই জাতিসংঘ ও অন্যান্য দাতা দেশ ও সংস্থার পাঠানো খাদ্য ও অর্থ সহায়তার ওপর সরাসরি নির্ভরশীল।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের ভূখণ্ডে হামাস যোদ্ধাদের হামলার পর গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। ১৫ মাস ধরে চলা সেই ভয়াবহ অভিযানে গাজায় নিয়মিত ত্রাণ প্রবেশ করতে দেয়নি আইডিএফ।

সামরিক অভিযানের সময় আইডিএফ গাজায় ত্রাণের প্রবেশ সংকুচিত করায় মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েন গাজার বাসিন্দারা। গত ১৫ মাসে গাজায় যে প্রায় অর্ধলাখ মানুষ নিহত হয়েছেন, তাদের একাংশের প্রাণহানির কারণ খাদ্য, ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রীর অভাব।

সর্বশেষ

আরও খবর >

- Advertisement -Newspaper WordPress Theme