back to top

[the_ad id="407"]

রাজনীতিতে অশালীন ভাষা ও ত্রুটিপূর্ণ শব্দচয়ন এর কারনে মুখ থুবড়ে পরবে আগামীর রাজনীতি

লেখকঃ রানা সাত্তার

রাজনীতিতে অশালীন ভাষা, কুরুচিপূর্ণ শ্লোগান ও অসহিষ্ণুতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, এখনই লাগাম টেনে না ধরলে মুখ থুবড়ে পরবে আগামীর রাজনীতি।

সম্প্রতি যেকোনো রাজনৈতিক সমাবেশ, মিটিং বা সোস্যাল মিডিয়ায় রাজনৈতিক ব্যাক্তিদের মুখের ভাষা অশালীন, কুরুচিপূর্ণ বিতর্কিত ও অশ্রাব্য শব্দচয়ন বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে।যা আসলেই নিন্দাজনক।

যে কোনো গণআন্দোলনে জনতার ভাষা প্রতিবাদী হয়ে ওঠে তাই বলে বাচ্চারা শুনে মা-বাবা কে প্রশ্ন করলে মা-বাবা উত্তর দিতে পারে না এইরকম ভাষা কখনোই কাম্য নয়। স্বৈরাচারী ক্ষমতার দুর্গ ভেঙে দেওয়ার দুর্মর আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করবার জন্যই জনতার মুখে সর্বগ্রাসী শব্দ ও উচ্চারণ ঠাঁই পায়। আক্রমণ যত তীব্র হয়, জনতার প্রতিরোধের ব্যূহ ও ভাষা ততবেশি ব্যাকরণের পথ ছেড়ে প্রাকৃত হয়, যা অনেক সময় শালীনতার সীমাও ছাড়িয়ে যায়। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের চূড়ান্ত পর্বে বিজয়ী ছাত্র-জনতার আচরণ ও ভাষা প্রচল অনেক নিয়ম তাই মানেনি। কিন্তু জাতীয় রাজনীতিবিদদের আজকাল যে ভাষায় আক্রমণ করা হচ্ছে, তা এককথায় অসভ্য। জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে শাহবাগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিছিলের ভাষা সব শালীনতা অতিক্রম করে। যদিও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ১৩ জুলাই বলেছেন, ‘আমরা শিষ্টাচার বজায় রাখব। আমাদের নেতার বিরুদ্ধে যারা অশালীন ভাষা ব্যবহার করছে, তারা নিজেরাই ছোট হচ্ছে।’ এই সুবচন তরুণ রাজনৈতিক কর্মীরা মোটেই আমলে নিচ্ছে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করবার পক্ষে রোকেয়া হল থেকে বিশাল মিছিল বের হয়। সেই মিছিল থেকে ছাত্রছাত্রীরা যে ভাষায় স্লোগান দিয়েছেন, তার কয়েকটি শালীনতার ভেদরেখা মুছে দেয়। এর আগে ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি কনসার্ট বিটিভিতে সম্প্রচার করা হয়। হিপহপ গানের নামে তরুণ গায়করা যে ভাষা ব্যবহার করলেন, তা অশ্রাব্য-অশ্লীল। এ দেশের হাজার বছরের সংস্কৃতির সঙ্গে বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই।
দিন কয়েক আগে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন আলোচনা অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের সঙ্গে নববধূ ও স্বামীর প্রথম রাতের অভিজ্ঞতার যে তুলনা দিলেন, জাতীয় রাজনীতির মঞ্চে সেই ভাষা কল্পনার চৌহদ্দিতেও ছিল না। আরও কয়েকজন তরুণ রাজনীতিক প্রায়ই বক্তৃতায় যে শব্দ চয়ন করছেন, তা উল্লেখ করতেও রুচিতে বাধে সেটি যেমন সত্য ঠিক তেমনি বিএনপির সিনিয়র নেতা দুদু এনসিপির নেতাদের মুতে (প্রস্রাব) করলে ভেসে যাওয়ার হুমকি দিলেন।যা শুনতে খুব কটু ও অশ্রাব্য। অনেকে বলেছেন এনসিপি কে চাইল্ড পার্টি এটি ছিল তুচ্ছ করে ব্যাবহার।

এদিকে বিএনপির সিনিয়র নেতা রুমিন ফারহানা ২৪ আগস্ট এনসিপি’র নেতাদের নিয়ে বাজে কথা বলায় তা দ্রুত মিডিয়ায় ছড়িয়ে পরেছে।তিনি আবার এনসিপি’র হাসনাত আবদুল্লাহকে কেন্দ্র করে বলেন ফকিন্নির বাচ্চা যা ইতিমধ্যে এনসিপি’র নেতারা তীব্র নিন্দা হিসাবে প্রতিবাদ জানাতে দেখা গেছে।আবার বিএনপির সিনিয়র নেতা সিনিয়র এডভোকেট জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যে বিএনপি নেতা ফজলুর রহমান, তিনি জুলাই কে কালো শক্তি ও জুলাই যোদ্ধাদের রাজাকারের বাচ্চা বলেছেন বলে অভিযোগ সোস্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পরেছে। এই বিষয়ে তিনি দলীয় শোকজ খেয়েছেন।

বর্তমান সমাজ রাজনীতির নানা অনুষঙ্গে এই জাতীয় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত চেষ্টা আরও বেশি দৃশ্যমান। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবসে বাংলা একাডেমির এ বছরের সভা রবীন্দ্র নিন্দাসভায় পরিণত হয়েছে বলে উপস্থিতজনেরা নানা মাধ্যমে জানিয়েছেন। অনুষ্ঠানে আলোচকরা ঘটা করে বলেছেন, রবীন্দ্রনাথ কতবড় নিষ্ঠুর জমিদার ছিলেন! কত বড় সাম্প্রদায়িক তিনি ছিলেন যে, তাঁর রচনায় মুসলমান চরিত্র খুঁজে পাওয়া যায় না।

চারপাশের নানাবিধ মতলববাজি ও চাতুর্য ঘন হয়ে জড়ো হয়েছে রাজনীতির মঞ্চে। কুরুচি ও অশ্লীলতা মতলববাজির প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। এর ফলাফল সমাজ ও রাজনীতিতে ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতা।
রাজনীতিতে শুধু নয়, জীবনের সব ক্ষেত্রে মতপার্থক্য থাকবে। এটিই জীবনের সৌন্দর্য। এখন চারপাশে দেখা যাচ্ছে, আপন মতামতে অজর আস্থা ও ভিন্নমতকে যেভাবে হোক পিষ্ট করবার প্রাণান্তকর চেষ্টা। এ কারণে দমন-পীড়নে ব্যবহার হচ্ছে অশ্লীল, অশ্রাব্য ভাষা, কুরুচিপূর্ণ আচরণ। ভাষিক নিপীড়নের অন্যতম উপায়, বিরোধী মতকে ‘ট্যাগ’ দেওয়া। আওয়ামী লীগ আমলে বিরোধিতা মানেই ছিল বিএনপি-জামায়াত, রাজাকার ট্যাগ; এখন হয়েছে ফ্যাসিবাদের দোসর।

সর্বোপরি,জাত-ধর্ম,গোত্র-উপগোত্র কিংবা রাজনৈতিক বিভক্তির জন্য চব্বিশের অসামান্য গণঅভ্যুত্থান হয়নি। রাজপথে যে লাখ লাখ মানুষের মিছিল একযোগে পরাক্রমশালী শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী আসন ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে; সেই জনতা ছিল যূথবদ্ধ। সেই ইস্পাতদৃঢ় ঐক্য ভেঙে যাচ্ছে রাজনৈতিক স্বার্থে। এখনো বাঙ্গলি স্বপ্ন বুনছে সুন্দর আগামীর একটি বসবাস যোগ্য বাংলাদেশ।

সর্বশেষ

আরও খবর >

- Advertisement -Newspaper WordPress Theme