চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবির) এলাকার ২নাম্বার গেইট নামক স্থানে স্থানীয়দের সঙ্গে চবি শিক্ষার্থীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় অন্তত শতাধীক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এদের মধ্যে গুরুতর আহত প্রায় ৩০ জনের বেশি শিক্ষার্থীকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। অন্যদিকে আহতদের স্থানীয়দের প্রাইভেট হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
রোববার (৩১ আগস্ট) সকালের দিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর স্থানীয়দের হামলার ঘটনায় বহু শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে অনেকের পরীক্ষাও ছিল। তাই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রবিবারের সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।’ রবিবার বেলা ১২ টার দিকে চবির এলাকার ২নং গেটের পূর্বদিকে চবি টু হাটহাজারী সংযোগ সড়কের লন্ডনী বিল্ডিং এলাকায গিয়ে দেখা গেছে জোবরা গ্রামের স্থানীয়দের সাথে শিক্ষার্থীদের আবারো থেমে থেমে সংঘর্ষ চলছিলো। এসময় ৫ থেকে ৭ জন গুরুতর আহত শিক্ষার্থীকে সহপাঠিরা উদ্ধার করে চবি মেডিকেলে নিয়ে যেতে দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মো. কোরবান আলী ও নাজমুল হোসাইন পুলিশের সঙ্গে রাত পৌনে ১টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তবে স্থানীয়দের দখলে থাকায় তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর রাস্তায় প্রবেশ করতে পারেননি এবং পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে সেনাবাহিনীকে খবর দিলে পরে রাত সাড়ে ৩টার দিকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
চবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. তানভির হায়দার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী আহত হয়েছে- এটা দুঃখজনক। আমরা সেনাবাহিনী ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছি। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চবির মেডিকেল সেন্টারের সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডা. মো. টিপু সুলতান সাংবাদিকদের জানান, আমি আগে কখনো একই সঙ্গে এত শিক্ষার্থীকে আহতাবস্থায় চিকিৎসা নিতে চবি হাসপাতালে আসতে দেখিনি। অনেককে সেন্টারে চিকিৎসা দিয়েছি এবং গুরুতর আহত বেশ কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে জানতে হাটহাজারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু মোহাম্মদ কাওসার হোসেনের সাথে বার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব না হওয়ায় মন্তব্য জানা যায়নি।
পরে হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো.তারেক আজিজ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি একটি ট্রেনিংয়ে ঢাকায় আছেন বলে জানান।
হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বেলা ১ টা ৩০ মিনিটের দিকে জানান, বর্তমানে আমি ঘটনাস্থলে আছি। আমরা পরিস্থিতি বুঝে ওই এলাকায় প্রয়োজনে ১৪৪ ধারা জারি করবো।
প্রসংগত, চবি দর্শন বিভাগের প্রথম বর্ষের (২০২৪-২৫ সেশন) সাফিয়া খাতুন নামের এক ছাত্রী ২নং গেইট এলাকার একটি ভবনে ভাড়া থাকতেন। শনিবার রাত ১২ টা ১৫ মিনিটের দিকে ওই ছাত্রী বাসায় প্রবেশ করতে গেলে ভবনের দারোয়ান তাকে বাধা দেয় ও পরে মারধর করে। পরে খবর পেয়ে শিক্ষার্থীরা দারোয়ানকে ধরতে গেলে সে পালিয়ে যায়। শিক্ষার্থীরা ধাওয়া করলে স্থানীয়রা ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করে। এসময় আশেপাশের স্থানীয় লোকজন মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেয় যে চবি শিক্ষার্থীরা স্থানীয়দের ওপর হামলা চালাচ্ছে। পরে উভয়ের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনার সূত্রপাত ঘটে।
