back to top

[the_ad id="407"]

সংকটে চট্টগ্রামের কাঁচা চামড়া শিল্প: বন্ধ ট্যানারি চালু ও ন্যায্যমূল্যের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

 চট্টগ্রামের কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীদের অস্তিত্ব রক্ষা, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া ট্যানারিগুলো পুনরায় চালুর দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বৃহত্তর চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা। শনিবার (৯ মে) নগরীর আতুরার ডিপো এলাকায় সংগঠনটির কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

​সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সমিতির সভাপতি মুসলিম উদ্দীন। এসময় সাধারণ সম্পাদক মো. ইউনুস ও সহ-সভাপতি মুহাম্মদ শাহজাহান উপস্থিত ছিলেন।

​ব্যবসায়ীদের লোকসান ও দেউলিয়া হওয়ার শঙ্কা

​নেতারা অভিযোগ করেন, প্রতিবছর কোরবানির ঈদের আগে সরকার চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দিলেও মাঠ পর্যায়ে তার প্রতিফলন ঘটে না। গত বছর ঢাকার বাইরে লবণযুক্ত চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৫০-৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হলেও ট্যানারি মালিকদের কাছে ব্যবসায়ীরা তা ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। ফলে ধারাবাহিক লোকসানে চট্টগ্রামের প্রায় ১৫০ জন ব্যবসায়ীর মধ্যে এখন মাত্র ৩০-৪০ জন টিকে আছেন। বাকিরা আর্থিক ক্ষতির মুখে ব্যবসা ছেড়েছেন বা দেউলিয়া হয়ে পড়েছেন।

​৪ দফা প্রধান দাবি

​সংবাদ সম্মেলন থেকে কাঁচা চামড়া শিল্পকে বাঁচাতে এবং আসন্ন কোরবানিকে সামনে রেখে বেশ কিছু দাবি জানানো হয়:

১. যৌথ দর নির্ধারণ: রমজানের ঈদের পর বর্তমান বাজারদরের ভিত্তিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ট্যানারি মালিক সমিতিকে যৌথভাবে দাম নির্ধারণ করে মিডিয়ায় প্রচার করতে হবে।

২. মনিটরিং সেল গঠন: নির্ধারিত দামে চামড়া ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে কি না, তা তদারকির জন্য কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

৩. বন্ধ ট্যানারি চালু: চট্টগ্রামের মদিনা ট্যানারিসহ দেশের বন্ধ ট্যানারিগুলো দ্রুত চালুর ব্যবস্থা করতে হবে।

৪. ঢাকার ক্রেতাদের অংশগ্রহণ: কোরবানির মৌসুমে ঢাকার বড় ক্রেতাদের সরাসরি চট্টগ্রাম থেকে চামড়া ক্রয়ের আহ্বান জানানো হয়েছে।

​আন্তর্জাতিক সনদ ও রপ্তানি বৃদ্ধি

​ব্যবসায়ী নেতারা জানান, দেশে ১৫০ থেকে ২০০টি ট্যানারি থাকলেও ইটিপি ও আন্তর্জাতিক এলডব্লিউজি (LWG) সনদ রয়েছে মাত্র কয়েকটির। রীফ লেদার, এএসএফ ট্যানারি, সুপারেক্স ও এপেক্স ফুটওয়্যারের মতো আরও বেশিসংখ্যক ট্যানারিকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে পারলে বিশ্ববাজারে রপ্তানি আয় কয়েক গুণ বাড়ানো সম্ভব।

​গবাদিপশুর রোগ নিয়ন্ত্রণে ভ্যাকসিন দাবি

​চামড়ার গুণগত মান ঠিক রাখতে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করে নেতারা বলেন, পশুর লাম্পি, অ্যানথ্রাক্স ও ক্ষুরারোগের কারণে চামড়া নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এসব রোগ প্রতিরোধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন ও ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

​বক্তারা দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চামড়ার বাজার হিসেবে চট্টগ্রামের গুরুত্ব বিবেচনা করে এই শিল্প রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সর্বশেষ

আরও খবর >

- Advertisement -Newspaper WordPress Theme