back to top

[the_ad id="407"]

চাটগাঁ উৎসবে সমগ্র বাংলাদেশ থেকে ০২/০৪ এর বন্ধুরা চট্টগ্রামে

নিজস্ব প্রতিবেদক

চাটগাঁ উৎসব থেকে জানাচ্ছি সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা,এইভাবেই সকাল ১০টায় মাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু হয় চাটগাঁ উৎসবের প্রথম প্রহর।

দৃষ্টি নন্দিত পাহাড় ঘেরা লেকের অপর প্রান্ত থেকে ভেসে আসছিল বন্ধুদের ডাক।সেল্ফি আর কোলাকুলি দেখে মনে হচ্ছিলো এ যেন ছোট বেলার স্কুল জীবনের ঈদ উদযাপন।

চট্টগ্রামের ফয়েজ লেকের সী ওয়ার্ল্ডে আয়োজিত চাটগাঁ উৎসবে যোগ দিতে ততক্ষণে হাজির একদল মধ্যবয়সী তরুণ। মধ্যবয়সী হলেও মনের বয়সে সবাই তরুণ দাবিদার।বন্ধুরা সবাই ০২/০৪ প্ল্যাটফর্মে এক হলে সবাই যেন বয়স ১৮হয়ে যায়।

যদিও পেশায় কেউ চিকিৎসক, যদিও একেক পেশার একেক কর্মজীবি বন্ধুরা।এদিকে আনন্দ ও মজা নিতে পিছিয়ে নেই ০২/০৪ এর মেয়ে বন্ধুরাও। চাটগাঁ উৎসবে বিশেষত্ব হলো এটি ছিল একটি ফ্যামিলি গেট টুগেদার। বন্ধুদের অনেকেই পরিবার,বাচ্চা নিয়ে আনন্দ করেছিল। ০২/০৪ যে কোনো উপলক্ষে পেলেই ওরা (পিকনিক, ইফতার ও ঈদ গেট টুগেদার,Silent Smile,শীতকালীন কম্বল বিতড়ণ) সাময়িক সময়ের জন্য সংসার-সন্তান ও ব্যক্তিগত কাজ কর্ম ফেলে ছুটে আসে স্কুল বন্ধুদের হৃদয়ের টানে।

গত শুক্রবার এমনই এক দৃশ্যের অবতারণা হয় চট্টগ্রামের ফয়েজ লেকের চাটগাঁ উৎসব -২০২৫ইং অনুষ্ঠানে।

প্রায় চার দশক আগে যে সব শিশু কিশোররা দেশের বিভিন্ন স্কুল-কলেজ থেকে এসএসসি ২০০২ এবং এইচ এসসি ২০০৪ সালে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চৌহদ্দিতে হাতে হাত ধরে ঘুরে বেড়াতো, কখনও টিফিন টাইমে আবার কখনও ক্লাস ফাঁকি দিয়ে খেলার মাঠে ছুটে চলা,অন্যর বাগানের ফল পেরে খাওয়া, মাঠে ফুটবল ও ক্রিকেট খেলায় মত্ত হতো থাকতো দুরন্তপনা, সময়ের পরিক্রমায় তারা এখন দেশ বিদেশে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের গন্ডি পেরিয়ে মধ্যবয়সে উপনীত হয়েছে।বিভিন্ন সেক্টরে জব করছে তারা।কিন্তু হৃদয়ের টানে আজ স্কুলের প্রায় ৪০০ এর অধিক সহপাঠী ও তাদের পরিবার এই চাটগাঁ উৎসবে অংশ নেয়। জীবন ও জীবিকার টানে সবাই কর্মব্যস্ত জীবন কাটালেও শুধুমাত্র চাটগা উৎসবে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তারা ছুটে আসেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে চাটগাঁ উৎসবে যোগ দেন।

সকালের নাস্তা,বেলুন উড়িয়ে শুভ উদ্বোধন ও কিছুক্ষণ খেলাধুলা শেষে পবিত্র জুমা নামাজ পড়ে আরেক দফা স্মৃতিচারণমুখর হয়ে উঠে চাটগাঁ উৎসব আড্ডা।দুপুরের খাবার শেষ বিকেলে “পিঢে খাইলে আয়্যু” অর্থাৎ পিঠা উৎসব ও বিকেলের কফির কাপে চুমুক দিয়ে শরীর চাঙ্গা করে সবাই মেতে উঠে ব্যান্ড সংগীতে।রং তুলি ও সাসটেইন এর গিটারের তারে টুংটাং সুরে সবাই ফিরে যায় সেই অতীতে।”ফিরিয়ে দাও আমার এই প্রেম”গানে যেন সবার মধ্য জাগিয়ে তুলে ঘুমন্ত অতীত।

সব শেষে, বিদায় নিয়ে চলে আসার সময় বন্ধুদের জন্য অপেক্ষা করে আরেক চমক। অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক মো.সরওয়ার বন্ধুদের বাচ্চাদের হাতে ওয়াটার পট তুলে দিয়ে বলেন,চাটগাঁ উৎসবে বন্ধুরা উপস্থিত হলেও আমাদের সন্তানরা অনুষ্ঠানে এসেছে তারাই আমাদের বন্ধুত্বকে আরো দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে সহযোগিতা করবে।আমরা একসময় থাকবো না,আমাদের বাচারাই আমাদের বন্ধুত্বকে কন্টিনিউ করে যাবে।তারাও যেন আমাদের সব আনন্দের অংশ হতে পারে এজন্য এ চমক।

 

এসময়, ঢাকার বন্ধু শান্ত বলেন,চট্টগ্রামের বন্ধুদের দিল(মন)এত্ত বড় যা কখনো ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।চট্টগ্রামের ০২/০৪ বন্ধুরা সবাই মিলে বড় বড় বাজেটের প্রোগ্রাম করে থাকে,এ ছাড়াও ফুল ফ্রি কিছু সামাজিক কাজ করেছে যা পুরা বাংলাদেশে প্রশংসার দাবিদার।যেমন হেলথ ক্যাম্প,শীতকালীন কম্বল বিতড়ণ,সাইলেন্ট স্মাইল,ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

আয়োজক কমিটির পক্ষে সরওয়ার জানান, বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আমরা স্কুল বন্ধুদের একত্রিত করার প্রচেষ্টা চালাই। আমরা সবাই মনে করি এটি আমাদের একটি পরিবার।আমাদের পরে আমাদের ছেলেমেয়েরা এই সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাক আমরা সেদিকেই আস্তে আস্তে এগিয়ে যাচ্ছি।বিদায় বেলায় একে একে সবাই আবারও শিগগিরই মিলিত হওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

সর্বশেষ

আরও খবর >

- Advertisement -Newspaper WordPress Theme