শিক্ষার গণ্ডি পেরিয়ে একটু আনন্দ, একটু উৎসব—এমন দিনই ছিল চট্টগ্রামের বিসিএসআইআর স্কুলে অনুষ্ঠিত ক্লাস পার্টির দিন। সকাল থেকেই শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস, রঙিন সাজসজ্জা ও নানান আয়োজনের মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ উৎসবের আমেজে ভরে ওঠে।
অন্য দিনের মতো কঠোর শাসন বা পড়াশোনার চাপ নয়—এদিন ছিল শিক্ষার্থীদের খেলা, গান, নাচ, আড্ডা আর খাওয়াদাওয়ার আনন্দে ভরা ব্যতিক্রমী একটি দিন। শিক্ষার্থীরা জানায়, সারা বছর পড়ালেখার ব্যস্ততার পর এই ক্লাস পার্টি তাদের জন্য বিশেষ আনন্দ ও প্রেরণার উৎস।
২০২৫ সালে তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থী রুকাইয়া জান্নাত রুহী বলে, “ঢাকায় মাদ্রাসায় পড়ার সময়ও ক্লাস পার্টি দেখেছি, কিন্তু এত সুন্দর ও আয়োজনপূর্ণ পার্টি কখনো দেখি নাই। এখানকার সবাই অংশ নেয়—এটা খুব ভালো লাগে।”
শ্রেণিকক্ষে রঙিন সাজ, কেক কাটা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা
দুই শিফটের শিক্ষার্থীরা সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পৃথকভাবে ক্লাস পার্টি উদযাপন করে। সকাল ৯টা থেকেই শুরু হয় শ্রেণিকক্ষ সাজানোর প্রস্তুতি। কোথাও রঙিন কাগজের মালা, কোথাও বেলুনের তোরণ, আবার কোথাও শিক্ষার্থী-শিক্ষকের তৈরি পোস্টার—সব মিলিয়ে প্রতিটি কক্ষ হয়ে ওঠে উৎসবের ছোট ছোট ক্ষুদে মঞ্চ।
শিক্ষার্থীদের পরিবেশিত খাবারে ছিল কেক, স্ন্যাকস, ফল, মিষ্টান্ন, চকলেটসহ নানা আইটেম। পাশাপাশি তারা নিজেরাই অংশ নেয় গান, কবিতা আবৃত্তি, গল্প বলা, নাচসহ বিভিন্ন পরিবেশনায়। এতে ক্লাসরুমগুলো আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠে।
এক শিক্ষার্থী বলে, “আমরা নিজেরা ক্লাস সাজাইছি, কেক কেটেছি, গান করেছি—খুব মজা লেগেছে। সারা বছরের চাপের মধ্যে এমন একটা দিন আমাদের খুব আনন্দ দেয়।”
অতিথিদের পরিদর্শন ও শিক্ষার্থীদের উৎসাহ
উৎসবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান শিক্ষক, পরিচালনা পর্ষদের কর্মকর্তারা, শ্রেণি শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ। তারা প্রতিটি শ্রেণিকক্ষ ঘুরে দেখেন, শিক্ষার্থীদের কেক কাটায় অংশ নেন এবং উৎসাহমূলক বক্তব্য দেন। শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা, অংশগ্রহণ ও দক্ষতা দেখে অতিথিরা সন্তোষ প্রকাশ করেন।
শিক্ষকদের মতে—সৃজনশীলতা ও মানসিক বিকাশের অনন্য আয়োজন
শিক্ষকরা বলেন, “শুধু বইয়ের জ্ঞান নয়, এই ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস, সৃজনশীলতা ও পারস্পরিক বন্ধন দৃঢ় করে। আনন্দমুখর পরিবেশ তাদের মানসিক স্বাস্থ্য ও শিক্ষাজীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।”
তারা আরও জানান, কো-কারিকুলার কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজ শিশুদের হাসিমুখ, তাদের সাজানো শ্রেণিকক্ষ এবং পরিবেশনা দেখে তারা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত।
অভিভাবকদের প্রশংসা—শিক্ষার্থীদের মানবিক ও সৃজনশীল বিকাশে সহায়ক
অভিভাবকরা বলেন, শিক্ষার্থীরাই একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রাণ। পড়াশোনার পাশাপাশি আনন্দ-উৎসব, সাংস্কৃতিক চর্চা ও মিলনমেলা শিশুদের মানবিক, সৃজনশীল ও দলবদ্ধ কাজে অনুপ্রাণিত করে। ক্লাস পার্টি তাদের সার্বিক বিকাশে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
উৎসবমুখর এই দিনটি শিক্ষার্থীদের জন্য শুধু একটি আনন্দঘন মুহূর্তই নয়, বরং তাদের মানসিক বিকাশ, পারস্পরিক সম্পর্ক ও সৃজনশীলতার বিকাশে রেখে গেছে স্মরণীয় ছাপ।
