দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে যেমন পতিতালয়ভিত্তিক দেহ ব্যবসা চলে আসছে, তেমনি এখন ডিজিটাল দুনিয়ার ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমু, চামেট, ভিগোসহ নানা অনলাইন অ্যাপকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে রমরমা অনলাইন দেহ ব্যবসার অবৈধ চক্র।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক গ্রুপ এবং দেশের ভেতরে ব্যবহৃত কিছু লাইভ-স্ট্রিমিং অ্যাপ প্রতিনিয়তই অবৈধ ব্যবসার আশ্রয়স্থল হয়ে উঠছে। এসব অ্যাপে প্রতিদিন প্রায় ৩০–৩৫ হাজার মানুষ লাইভে যুক্ত হয়—যার উল্লেখযোগ্য অংশ দেহ ব্যবসার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয় বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।
চামেট, ভিগো, ইমু এবং এ ধরনের আরও কিছু অ্যাপে প্রতিনিয়তই এমন অশালীন কার্যক্রম ঘটছে যা সমাজে কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। শুধু বাংলাদেশ থেকেই নয়, বিভিন্ন দেশের তরুণীরাও এসব প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়ে একই ধরনের কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছে। ফলে এটি প্রশাসনের নজর এড়িয়ে সহজেই ছড়িয়ে পড়ছে।
সি নিউজের একটি অনুসন্ধানী টিম দীর্ঘদিন গোপনে এসব অ্যাপ পর্যবেক্ষণ করে। অনুসন্ধানে উঠে আসে—এসব অ্যাপ কেবল অশোভনীয় কন্টেন্ট তৈরিতেই নয়, বরং সুসংগঠিত দেহ ব্যবসা পরিচালনার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সামান্য অঙ্কের অর্থ প্রদান করলেই বিভিন্ন মাধ্যমের মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপন করা যায়, যেখানে পেমেন্ট নেওয়া হয় বিকাশ, নগদ, রকেট কিংবা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে।
এখানেই শেষ নয়—অনেকে অর্থ নেওয়ার পর প্রতারণা, ব্ল্যাকমেইলসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। ফলে বিশেষ করে কিশোর–তরুণরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ছে। অনেক অপ্রাপ্তবয়স্কও এসব অ্যাপ ব্যবহার করে ভয়াবহ অনৈতিকতার দিকে ধাবিত হচ্ছে।
সমাজবিধ্বংসী এ ডিজিটাল দেহ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর ভূমিকা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক সমাজ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব সফটওয়্যার বাংলাদেশে কার্যত ব্যান করা এবং এর পেছনের চক্রগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর তদন্ত জরুরি। তা না হলে যুবসমাজের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে নিমজ্জিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
