ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে অংশ নিতে গিয়ে ড্রোন হামলায় মোঃ আব্দুর রহিম (৩৫) নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। নিহত রহিম ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের নামাপাড়া গ্রামের আজিজুল হকের ছেলে। সোমবার (১১ মে) রাতে তার নিহতের খবর পায় পরিবার। গত ২ মে রুশ সীমান্তবর্তী এলাকায় ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন হামলায় রহিম নিহত হন। ওই হামলায় আরও দুই বাংলাদেশি ও এক নাইজেরীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে তারা জানতে পেরেছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন অন্তত চারজন।
নিহতের জেঠাতো ভাই আব্দুল্লাহ জানান, গত প্রায় দুই বছর আগে কাজের জন্য রাশিয়া যায় আব্দুর রহিম। সম্প্রতি সেখানে অতিরিক্ত আর্থিক লোভে পড়ে দেশটির সেনাবাহিনীর সাথে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয় রহিম সহ অন্যান্য এলাকার আরো চারজন। এজন্য কিছুদিন ট্রেনিং করে তারা। অবশেষে যুদ্ধে গেলে ড্রোন হামলায় রহিম নিহত হয় বলে জানা গেছে। রহিমের যুদ্ধে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে জানতো না পরিবার। উন্নত জীবনের আশায় বুক বেঁধে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়ে এখন দিশেহারা পরিবার।
ছেলের মৃত্যুতে নিহতের বাবা আজিজুল হক বলেন, পরিবারের সব দায়িত্ব আমার ছেলের ওপর ছিল। রহিম সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছে, তা আমাদের জানায়নি। জানলে আমি কখনোই তাকে সেখানে যেতে দিতাম না। সরকারের কাছে আমার একটাই দাবি, যেন দ্রুত আমার ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
নিহতের মামা আফসার আলী বলেন, অর্থের লোভে পড়ে আমার ভাগ্নে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল। এখন আমরা চাই, দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে পরিবারকে সহযোগিতা করা হোক।
এদিকে যুবক নিহতের বাড়ি পরিদর্শনে গিয়ে সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহা. কামরুল হাসান মিলন বলেন, পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা চলছে এবং মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি তরুণদের অর্থের প্রলোভনে পড়ে এমন ঝুঁকিপূর্ণ পথে না যাওয়ার আহ্বান জানান। এসময় উপস্থিতি ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম সোহাগ, থানা অফিসার ইনচার্জ রাশেদুল হাসান, পুটিজানা ইউনিয়নের প্রশাসক রওশন জাহান।
শোকাতুর পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠছে। স্বজনদের সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা হারিয়েছেন প্রতিবেশীরাও।
