back to top

[the_ad id="407"]

দুর্ধর্ষ ডাকাত থেকে হঠাৎ ‘রাজনৈতিক আসামি’—কর্ণফুলীতে গ্রেপ্তার নাটক

নিজস্ব প্রতিবেদক

চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও অস্ত্র মামলার আসামি মো. নুর হোসেন প্রকাশ আরিফ (২৯) কে কর্ণফুলী থানা পুলিশ রাজনৈতিক নাশকতা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে—যা নিয়ে আইনি মহল ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে।

গত শুক্রবার রাতে উপজেলার শিকলবাহা এলাকা থেকে তাকে আটক করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শরীফ। গ্রেপ্তার আরিফ শিকলবাহা মাস্টারহাট এলাকার বুলু মেম্বারের বাড়ির মৃত আলী হোসেনের ছেলে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কর্ণফুলী ও বাকলিয়া থানায় তার বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও অস্ত্র আইনে অন্তত ১৩টি মামলা রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, আরিফ দীর্ঘদিন ধরে শাহ আমানত সেতু ও মইজ্জ্যারটেক এলাকায় সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্র পরিচালনা করে আসছে। চলন্ত গাড়ি থেকে মালামাল লুট, যাত্রীবাহী সিএনজিতে ডাকাতি, এমনকি সম্প্রতি এক ব্যবসায়ীর ১০ লাখ টাকার পণ্য ছিনতাই—সবকিছুর সঙ্গে তার সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে।

আইনজীবী আনোয়ার হোসেন বলছেন, ‘দণ্ডবিধি ও ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, কোনো আসামি যদি নির্দিষ্ট অপরাধে গ্রেপ্তারযোগ্য হয়, তবে তাকে সেই অপরাধের মামলাতেই গ্রেপ্তার দেখাতে উচিত।নাশকতা মামলায় ‘ডেভিল’ হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হলে তদন্তে মূল অপরাধ আড়ালে থেকে যেতে পারে, যা বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করবে।’

তিনি আরো বলেন, চিহ্নিত অপরাধীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অপরাধের পরিবর্তে রাজনৈতিক মামলা ব্যবহার করাকে ‘আইনের অপব্যবহার’ বলে মন্তব্য করেছেন।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় রাজনৈতিক নাশকতা মামলা ব্যবহার করে নানা ধরনের আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানোর প্রবণতা বেড়েছে।

এতে একদিকে প্রকৃত অপরাধের তদন্ত ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক মামলার পরিসর অপ্রয়োজনীয়ভাবে বিস্তৃত হচ্ছে। ফলে প্রকৃত নাশকতার ঘটনার সঙ্গে অসংশ্লিষ্ট মামলাগুলো আদালতে গিয়ে দুর্বল হয়ে পড়ে, যা বিচার ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

শিকলবাহার বাসিন্দারা বলছেন, একজন চিহ্নিত চোর, ছিনতাইকারী ও ডাকাতকে সুনির্দিষ্ট অপরাধের বদলে রাজনৈতিক মামলায় দেখানো মানে মূল অপরাধকে আড়াল করা। এতে এলাকার মানুষ আশঙ্কা করছে, প্রমাণের ঘাটতির কারণে আসামি আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে আসবে।

সচেতন মহল বলছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এ ধরনের পদক্ষেপ অপরাধীদের জন্য ‘অপ্রকাশ্য আশীর্বাদ’ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

এ বিষয়ে ওসি মুহাম্মদ শরীফ বলেন, “তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।” তবে কোন মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি নাশকতা মামলার ‘ডেভিল’ আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানোর কথা জানান।

সর্বশেষ

আরও খবর >

- Advertisement -Newspaper WordPress Theme