back to top

[the_ad id="407"]

ব্যবসায়িদেরকে প্রকাশ্য দোকান ছাড়ার ও প্রান নাশের হুমকি

চট্টগ্রামের বায়েজিদে আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে জমি দখলের চেষ্টা!

নিজস্ব প্রতিবেদক

 

মামলা যেত্তে গোড়াদি হাইপেলাইয়্যুম, মামলা হারিজ অই যাইবুগো, এত্তে হডে যাইবু বেগ্গিন।’ যার অর্থ দাঁড়ায় ‘চলমান মামলাটির গোড়া বা শিকড় থেকে শেষ করে দিব, মামলা খারিজ হয়ে যাবে-তখন কোথায় যাবে এগুলো। এভাবে চট্টগ্রামের স্থানীয় চাটগাঁইয়া ভাষায় এমন দম্ভোক্তি, হুমকি ও অশ্রাব্য গালাগালিতে এখন সরগরম নগরীর বায়েজিদ এলাকার কুলগাঁওয়ের ওয়াপদা গেইট ব্যবসায়িক মহল। আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ওয়াপদা গেইট সংলগ্ন একাধিক দোকান অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা এবং সেই সঙ্গে ভাড়াটিয়াদের ডেকে নিয়ে ভয়ভীতি দেখানো—এই চিত্র যেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এক নির্মম প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।

সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার রাতে ভাড়াটিয়া রাসেলের দোকানে শাহজাহান চৌধুরী ও জসিমের নেতৃত্বে একদল লোক হাজির হয়। ওই সময় উপস্থিত এক সংবাদকর্মীকে দেখিয়ে রাসেলকে উদ্দেশ্য করে শাহাজাহান চৌধুরী বলেন ‘উনি ইয়াবা ব্যবসায়ী’। রাসেল অপবাদের প্রতিবাদ করে বলেন, ‘আমি সদ্য মাস্টার্স শেষ করেছি ও পরিবারের প্রয়োজনে দোকানদারি করি। ওই সমস্ত খারাপ ব্যবসার সাথে আমি জড়িত নই।’ তখন জসিম বলে উঠে ‘দোকানগুলো আমাদের,’ জবাবে রাসেল বলেন, ‘আপনাদের পরিবার থেকে আমাদেরকে রাজা মিয়ার সাথে মিট করে দিয়েছিল। এছাড়া আদালতে এ নিয়ে নিষেধাজ্ঞা চলছে। আদালত যার পক্ষে রায় দিবে, আমরা তার কথা শুনবো।’
এর আগে গত ১৬ আগস্ট মো. রাসেলকে ডেকে নেওয়া হয় চৌধুরী টাওয়ার এলাকায়। সেখানে তাকে দোকান ছেড়ে দিতে বলা হয়।
দোকান ভাড়াটিয়া মো. নাছির উদ্দিন রাসেল গতকাল শুক্রবার বলেন, ‘আমরা গরীব বলেই দোকানদারি করে চলি। আগে হুমকি দিয়েছিল এবার ১০-১২ জন লোক নিয়ে দোকানে এসে ইয়াবা ব্যবসায়ী বানানোর অপচেষ্টা করছে, সব মিলে আমি নিরাপত্তার শঙ্কায় ভুগছি।’ প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তাও দাবি করেন তিনি।

অন্যান্য ভুক্তভোগীরা জানান, জিডি করার পরও হুমকি-ধমকি থেমে নেই । শুধু হুমকি নয়, চাটগাঁইয়া ভাষায় গালিগালাজ আর ভয় দেখানোর তিনটি অডিও রেকর্ড ইতিমধ্যে দেশ বর্তমান-এর হাতে এসেছে, যেখানে হুমকিদাতা শাহাজাহান চৌধুরী প্রকাশ্যেই বলেন: ‘তুই রাজা মিয়েল্ল ভিজ্জুজ্জে … তুই এডে তাইত পারিবি নি? যার অর্থ রাজা মিয়ার সাথে ভিড়লে-এখানে তুমি থাকতে পারবে? আরেকটিতে শোনা যায়, ‘ফোদুদি…গলায় কি গরি চাইচ’ যার অর্থ- পাছা দিয়া… কি করি দেখিস।”

অডিও রেকর্ডের এই ভয়ঙ্কর ভাষা এবং প্রকাশ্যে হুমকি কেবল একজন ভাড়াটিয়াকে নয়, পুরো এলাকার ব্যবসায়ী মহলকে আতঙ্কিত করে তুলেছে।

ঘটনার পেছনে জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ, যা আদালতে বিচারাধীন। এমনকি ৩০ জুলাই আদালত থেকে নিষেধাজ্ঞা জারি থাকা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষের তৎপরতা থেমে নেই। ভুক্তভোগীরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করলেও এখনো নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটছে বলে জানান মো. রাসেল ও রাজা মিয়া।

এদিকে অডিও রেকর্ডে হুমকির প্রমাণও মিলেছে। হুমকির বিষয়ে গত ২০ আগস্ট বায়েজিদ থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেন হাজী মো. আবুল খায়ের। তিনি জানান, ‘জমি নিয়ে মামলা করেছি। ৩০ জুলাই আদালত নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। তারপরও তারা থামেনি। বরং আমার ভাড়াটিয়াদের ভয় দেখিয়ে আমাকে মামলার চাপ দিতে চাইছে।’

হুমকির অডিও ফাঁস, আতঙ্কিত দোকানদাররা :
এ সময়কার একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঘটনায় এলাকার ব্যবসায়ীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, এক ভাড়াটিয়া যদি হুমকির শিকার হয়, তাহলে বাকি দোকানদাররা নিরাপদ কীভাবে?

আদালতের নিষেধাজ্ঞা, তারপরও দখলের চেষ্টা
জমি দখলের এই প্রচেষ্টা সরাসরি আদালতের আদেশ অমান্য ও আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন’ হিসেবে দেখছেন রাজা মিয়া।

অভিযুক্ত কারা? :
ঘটনার পর আবুল খায়ের বায়েজিদ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। অভিযোগে নাম এসেছে চারজনের: মো. শাহজাহান চৌধুরী (পিতা: লোকমান চৌধুরী), জসিম উদ্দিন (পিতা: হাজী মো. ইসলাম), মো. রফিক (পিতা: মৃত মো. শফি) ও মো. গিয়াস উদ্দিন (পিতা: নুরুল আমিন)।

হুমকির বিষয়টি জানতে চাইলে শাহাজাহান চৌধুরী বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, বিষয়টি নিয়ে আদালত নির্দেশনা দিবে। এ সময় তিনি নিজেকে স্থানীয় বিএনপি নেতা ইকবাল ও হারুনের আত্মীয় বলে পরিচয় দেন। তিনি বলেন, আমরাও থানায় একটি অভিযোগ করেছি।

পুলিশ বলছে ব্যবস্থা নেওয়া হবে :
বায়েজিদ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, ‘আমরা অভিযোগ পেয়েছি। অডিও রেকর্ডসহ সবকিছু যাচাই করা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মানবাধিকারকর্মীর মন্তব্য: এ বিষয়ে স্থানীয় মানবাধিকারকর্মী মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘আইন-আদালতকে অবজ্ঞা করে কেউ যদি এমন হুমকি দেয়, তাহলে সেটা শুধু জমি দখল নয়—গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ওপর সরাসরি হুমকি। প্রশাসনকে শক্ত হাতে ব্যবস্থা নিতে হবে।’

সর্বশেষ

আরও খবর >

- Advertisement -Newspaper WordPress Theme