মোবাইল জার্নালিজম (মোজো) নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী উমামা ফাতেমার ফেসবুক পোস্টের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (এমআরএ)।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক আবু বক্কার সিদ্দিকের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘সাংবাদিক সমাজকে হেয়প্রতিপন্ন করার এ ধরনের বক্তব্য গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য হুমকিস্বরূপ।’
এমআরএ-এর বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ডাকসু ভিপি প্রার্থী হয়েও উমামা ফাতেমা সাংবাদিকতা পেশাকে, বিশেষ করে মোবাইল জার্নালিজমকে অবমাননাকর ভাষায় তিরস্কার করেছেন। সাংবাদিক সমাজ তার এ মনোভাবে বিস্মিত। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সাংবাদিকদের প্রশ্ন করা, পর্যবেক্ষণ করা এবং ভোটার-প্রার্থীর সম্পর্কের স্বচ্ছতা জনগণের সামনে তুলে ধরা দায়িত্বের অংশ।
এমআরএ সভাপতি ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘মোজো জার্নালিস্টদের প্রতি উমামা ফাতেমার মনোভাব, মুক্ত সাংবাদিকতা ও তথ্যের স্বাধীনতার পরিপন্থী। সাংবাদিকদের কাজ জনগণের জানার অধিকার নিশ্চিত করা—এটা কোনো নীতি বহির্ভূত বিষয় নয়। সাংবাদিকদের হেয় করে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘মোবাইল জার্নালিজম আজকের যুগে সংবাদ পরিবেশনের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার, যা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে। সাংবাদিকদের কাজকে খাটো করা মানে জনগণের জানার অধিকার খাটো করা।’
এমআরএ সাধারণ সম্পাদক আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘উমামা ফাতেমা ‘ব্যক্তিগত প্রাইভেসির’ অজুহাত তুলে সাংবাদিকদের কাজকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছেন। অথচ ডাকসু নির্বাচন একটি পাবলিক ইভেন্ট, যেখানে প্রার্থী হিসেবে তার প্রতিটি পদক্ষেপ গণমাধ্যমে আসাটাই স্বাভাবিক। সাংবাদিকদের দায়মুক্তিহীনভাবে অপমান আসলে স্বচ্ছ নির্বাচনকে আড়াল করার কৌশল।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অবিলম্বে উমামা ফাতেমার এই বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে।
প্রসঙ্গত, গতকাল বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক একাউন্টে এক স্ট্যাটাসে উমামা ফাতেমা অভিযোগ করেন, ‘ডাকসু নির্বাচনে ডিজিটাল মোবাইল জার্নালিজম পুরো নির্বাচনের পরিবেশকে নষ্ট করছে। প্রার্থীদের সাথে ভোটারদের কথা বলার সহজ স্বাভাবিক প্রসেসকে কঠিন করে দিচ্ছে।’
প্রার্থীদের পেছনে প্রতিটা পদক্ষেপ ভিডিও করতে থাকা কতটা সমীচীন সেই প্রশ্ন তুলে উমামা ফাতেমা সেই পোস্টে লিখেছেন, ‘বারবার নিষেধ করার পরও সাংবাদিকদের এ ধরনের নীতি বহির্ভূত কার্যক্রম থামানো যাচ্ছে না। ব্যক্তির কনসেন্টের বাইরে গিয়ে ভিডিও করা, ক্রপ করে ভিডিও ভিন্ন এঙ্গেলে প্রদর্শন করার কাজ থামানো যায় না।’
সাংবাদিকদের প্রাইভেসি মেনে চলার অনুরোধ জানিয়ে তিনি লিখেন, ‘সাংবাদিকদের কাছে অনুরোধ থাকবে আপনারা প্রার্থী ও ভোটারের প্রাইভেসি মেনে চলুন। ভোটার ও প্রার্থীর সম্মতির বাইরে অযাচিতভাবে ভিডিও করে ভোটের পরিবেশটা নষ্ট করবেন না।’
