দক্ষিন চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার ব্যাস্ততম সড়ক দরবেশহাট থেকে হাছনাভিটা ব্রিজ পর্যন্ত শত শত গর্ত হয়ে এখন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। কোথাও পিচঢালাই উঠে গেছে। সড়ক জুড়ে শতশত ছোট বড় গর্ত।
গর্তে জমেছে বৃষ্টির পানি। দেখে মনে হবে ডোবা। এসব গর্তে পড়ে প্রায় সময় আটকে যাচ্ছে গাড়ি। কাদাপানিতে একাকার হয়ে যাওয়ায় হাঁটাও দায় হয়ে পড়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, এই সড়কটির বেশ কয়েকটি স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে পানি জমে আছে। বিশেষ করে লোহাগাড়া সদরের শাহপীর মাজার গেইটের সামনে , দরবেশহাট তিন রাস্তার মোড , দয়ারবর পাড়া , এম চর হাট বাজার জামালের ভাতের দোকানের সামনে , মাষ্টার পাড়া টার্নিং, গৌড়স্থান লাকী পাড়া, নয়াবাজার, গজালিয়া দিঘীর পাড়, মনিরের টেক এবং হাসনা ভিটার আগে সেতু পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার জুড়ে বেশিরভাগ অংশ খানাখন্দে ভরা।
একেবারে যান চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কটির মাঝেমাঝে বড় বড় গর্ত হয়ে গেছে। সে গর্তে জমেছে বৃষ্টির পানি। অনেক জায়গায় পথচারীরা যানবাহন থেকে নেমে হেঁটে পার হচ্ছেন। পথচারী, শিক্ষার্থী ও রোগীদের পোহাতে হচ্ছে সীমাহীন দূর্ভোগ।
স্থানীয়রা জানান, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণে সড়কটি পাকা করার পরের বছরই ভাঙতে শুরু করে। সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন বড় ট্রাকে করে গাছ, বাঁশ, ইট ও মাটি পরিবহণ করা হয়। অতিরিক্ত ধারণক্ষমতার এসব ট্রাক চলাচলের কারণে সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, লোহাগাড়া সদর থেকে পুটিবিলার হাসনাপাড়া ব্রিজ পর্যন্ত ডিসি সড়কের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৯.৬ কিলোমিটার। এলজিইডি’র অধীনে প্রায় ১০ বছর আগে সড়কটি পাকা করা হয়। সর্বশেষ ৫ বছর আগে সংস্কার করা হয়। সড়কটি বান্দরবান পার্বত্য জেলার সাথে সংযুক্ত।
পুটিবিলার বাসিন্দা জাহেদুল ইসলাম অভি বলেন, ‘সড়কটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও রোগীদের বেশি সমস্যা হচ্ছে। সড়কটি দ্রুত সময়ে সংস্কার করা জরুরি।’
সিএনজি অটোরিকশাচালক নাছির উদ্দিন বলেন, ‘দিনের পর দিন গর্তের জন্য গাড়ি চালাতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে, কিছু অংশ সংস্কার করা হলেও ভারী ট্রাক চলার কারণে সেটা আগের অবস্থায় ফিরে গেছে।’
জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী ইফরাত বিন মুনির বলেন, ‘এমচর হাট বাজার থেকে হাসনাভিটা সেতু পর্যন্ত সড়ক সংস্কার কাজের টেন্ডার হয়েছে, ঠিকাদারকে কার্যাদেশও দেওয়া হয়েছে। বাকি গুলো টেন্ডার হয়নি। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করে দ্রুত কাজ শুরুর ব্যবস্থা করে হবে।’
