সাম্প্রতিক সময়ে আবারো আলোচনায় এসেছে পাহাড়ে “স্থায়ী বাসিন্দা সনদ” ইস্যু। খাগড়াছড়িতে নতুন জেলা প্রশাসকের নির্দেশে নাকি বাঙালিদের সনদ পেতে হেডম্যানের রিপোর্ট ও চাকমা রাজার অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে— এমন অভিযোগ ঘুরছে সামাজিক মাধ্যমে। প্রশ্ন জাগে, একই দেশের নাগরিক হয়েও কেন বাঙালিদের আলাদা প্রমাণ দিতে হবে পাহাড়ে বাসিন্দা হিসেবে?
আমরা যারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম পাহাড়ে জন্মেছি, বেড়ে উঠেছি, সরকারি আইডি, জন্মনিবন্ধন ও ভোটাধিকার পেয়েছি— তারা কি এই দেশের নাগরিক নই? তাহলে কেন এই “স্থায়ী বাসিন্দা সনদ” শুধুমাত্র তিন পার্বত্য জেলায়? দেশের অন্য ৬১ জেলায় তো এমন কোনো সনদের প্রয়োজন হয় না।
বাসিন্দা সনদের নামে এখন বাঙালিরা পড়ছে হয়রানির জালে—
প্রথমে হেডম্যানের রিপোর্ট, এরপর ইউএনও ও ডিসির তদন্ত, তারপর অনুমোদন। অথচ এই হেডম্যানরা প্রায় সবাই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধি, যাদের হাতে বাঙালিদের ভাগ্য নির্ধারিত হচ্ছে। এতে সৃষ্টি হচ্ছে সামাজিক বৈষম্য ও প্রশাসনিক জটিলতা।
সংবিধান অনুযায়ী আমরা সবাই সমান নাগরিক। তাহলে পাহাড়ে “অ-উপজাতি” পরিচয়ে বাঙালিদের আলাদা করে দেখা হবে কেন? যদি সত্যিই স্থায়ী বাসিন্দা সনদের প্রয়োজন হয়, তবে সেটি সারা দেশে অভিন্ন নিয়মে প্রযোজ্য হোক— পাহাড়ে একরকম, সমতলে আরেকরকম আইন চলতে পারে না।
দেশের একাংশে নাগরিকত্ব প্রমাণের নামে বৈষম্য, হয়রানি ও প্রশাসনিক অন্যায় বন্ধ করতে এখনই প্রয়োজন নীতিগত সংস্কার।
পাহাড় বাংলাদেশের অংশ, বাঙালিরাও এই ভূমির সন্তান। নাগরিকত্বের জন্য কারো মুখাপেক্ষী হওয়ার কথা নয়।
