অপরাধ দমন কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একক দায়িত্ব নয়; জনগণের সাহস, সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণই অপরাধমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রধান ভিত্তি বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার জনাব মোঃ মাসুদ আলম, বিপিএম।
রবিবার (০২ আগস্ট ২০২৬) সীতাকুণ্ড উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ভাটেরখীল মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এক সুধী সমাবেশ ও উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সামাজিক প্রতিরোধের আহ্বান
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার বলেন, “ভয় অপরাধীদের শক্তি জোগায়, আর জনগণের সাহস অপরাধকে পরাজিত করে। তাই অন্যায়ের বিরুদ্ধে নীরব না থেকে আইনের প্রতি আস্থা রেখে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, পুলিশের লক্ষ্য কেবল অপরাধীকে গ্রেফতার করা নয়, বরং অপরাধের মূল কারণ চিহ্নিত করে একটি নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা। তরুণ সমাজকে অপরাধের পথ থেকে দূরে রাখার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য নতুন করে যেন আর কোনো ‘ইরান’ তৈরি না হয়।” এ জন্য পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সামাজিক নেতৃত্ব এবং প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।
মাদক ও কিশোর অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স
মাদককে সমাজের প্রধান ধ্বংসাত্মক উপাদান উল্লেখ করে পুলিশ সুপার বলেন, মাদক গোটা সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংস করে। আইনগত ব্যবস্থার পাশাপাশি তিনি তরুণদের শিক্ষা, খেলাধুলা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার আহ্বান জানান।
সভায় স্থানীয় বাসিন্দারা এলাকার মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও কিশোর অপরাধ নিয়ে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং পুলিশি টহল ও নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানান।
স্থানীয়দের দাবির জবাবে পুলিশ সুপার স্পষ্ট জানান, “অপরাধীর পরিচয়, প্রভাব বা অবস্থান যাই হোক না কেন, আইনের শাসনই হবে সিদ্ধান্তের একমাত্র ভিত্তি।” কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। একই সাথে আইন নিজের হাতে না তুলে দিয়ে যেকোনো অপরাধের তথ্য পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করেন।
অপরাধমুক্ত সীতাকুণ্ড গড়ার অঙ্গীকার
উক্ত মতবিনিময় সভায় এলাকার জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা, সুধীজন এবং সাধারণ পেশাজীবী মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ শেষে উপস্থিত জনতা মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত একটি শান্তিপূর্ণ ও মানবিক সীতাকুণ্ড গড়ে তুলতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সাথে একযোগে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
