back to top

[the_ad id="407"]

লবণ পানিতে পিচ্ছিল চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক, বাড়ছে দুর্ঘটনা

রানা সাত্তার, চট্টগ্রাম

লবণ পানিতে পিচ্ছিল চট্টগ্রাম -কক্সবাজার মহাসড়ক। মহাসড়কে প্রশাসনের কোনো ধরনের তদারকি না থাকায় পানিযুক্ত ট্রাকযোগে লবণ বোঝাই করার কারণে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও টেকনাফের আঞ্চলিক সড়কে দুর্ঘটনা বাড়ছে। প্রতিদিন তাজা প্রান ঝরে পরছে এই মহাসড়কে।

গত তেরো মাসে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও টেকনাফ সড়কে ৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে আহত হয়েছে আরো ৮০ জন। পানিযুক্ত লবণ বোঝাইয়ের কারণে সড়ক পিচ্ছিল হয়ে শুধু দুর্ঘটনা নয়, কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিও হচ্ছে। হাইওয়ে পুলিশের সামনে এইসব পানিযুক্ত লবণ বোঝাই গাড়ি চলাচল করলেও টাকার কারণে অনেকটা অন্ধ তারা। অনেকটা বিনাবাধায় পানিযুক্ত লবণ ট্রাকযোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টেকনাফের হ্নীলা এলাকায় প্রধান সড়ক দখল করে পানিযুক্ত লবণ তুলা হচ্ছে ট্রাকে। ওই সব ট্রাক দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে। এতে করে লবণ-পানিতে নষ্ট হচ্ছে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের অন্তত ৮৬ কিলোমিটার অংশ। অনেক স্থানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে সড়কে সৃষ্টি হচ্ছে ছোট-বড় গর্ত। এসব লবণ পরিবহনের সময় পলিথিন মোড়ানোর নির্দেশনা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না।

কয়েকজন লবণ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, ট্রাকের নিচে পলিথিন বিছিয়ে লবণ বোঝাই করলে সড়কে পানি পড়বে না, এটা ঠিক। কিন্তু পলিথিনের ওপর জমে থাকা পানিতে অর্ধেক লবণ গলে যায়, যার জন্য পলিথিন বিছানো হয় না।

একজন চালক বলেন, লবণের পানিতে সড়ক পিচ্ছিল থাকার কারণে যানচলাচলে চরম বিঘ্ন ঘটছে। অনেক সময় ৩০ মিনিটের পথে এক ঘণ্টা সময় পার হচ্ছে।

বিআরটিএ কক্সবাজার কার্যালয়ের মোটরযান পরিদর্শক মো. মামুনুর রশীদ দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তেরো মাসে কক্সবাজার -চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও টেকনাফ সড়কে ৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে আহত হয়েছে আরো ৮০ জন। শীত মৌসুমে এমনিতেই সড়ক পিচ্ছিল থাকে। অন্যদিকে পানিযুক্ত লবণ পরিবহন দুর্ঘটনার কারণ বলে মন্তব্য করেন এই কর্মকর্তা।

রামু ক্রসিং হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসির উদ্দীন বলেন, বিষয়টি নজরে এসেছে। পলিথিন ছাড়া কোনো লবণ বোঝাই ট্রাক পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিকের) তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে দেশে লবণের চাহিদার ৮০ ভাগই মেটানো হয়।তবে তারা লবণ পরিবহনের নীতিমালা মেনে চলা উচিত।

এবার জেলায় প্রায় ৭০ হাজার একর জমিতে লবণ চাষ হচ্ছে। লবণ উৎপাদনের নতুন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৬ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন। গত বছর ৬৮ হাজার ৫০৫ একর জমিতে লবণ উৎপাদিত হয়েছিল ২৪ লাখ ৩৮ হাজার মেট্রিক টন। যা বাণিজ্যিক লবণ উৎপাদন শুরুর পরবর্তী ৬২ বছরের সর্বোচ্চ রেকর্ড। এবারও শতভাগ জমিতে পলিথিন প্রযুক্তিতে ব্যবহার হচ্ছে। এ বিষয়ে চাষিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সনাতন পদ্ধতির তুলনায় পলিথিন প্রযুক্তিতে লবণ উৎপাদন আড়াই গুণ বেশি হয়। কক্সবাজার জেলার ৪৪ হাজার প্রান্তিক চাষি, ১ লাখ শ্রমিকসহ অন্তত ১০ লাখ মানুষ লবণ উৎপাদন, বিপণন, পরিবহণ ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

সর্বশেষ

আরও খবর >

- Advertisement -Newspaper WordPress Theme