মহান বিজয় দিবস কেবল একটি ছুটির দিন নয়, এটি জাতির আত্মপরিচয় ও গৌরবের প্রতীক। দিবসটি উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সকল প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের বিধান থাকলেও ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় এর ব্যতিক্রম চিত্র দেখা গেছে।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) বিজয় দিবসে উপজেলার গাড়াজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন না থাকায় মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সকাল ১১টা ৬ মিনিটে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায় দিবসটির গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও গাড়াজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়নি। বিজয়ের এই ঐতিহাসিক দিনে একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা না থাকায় বিস্ময় ও হতাশা প্রকাশ করেন উপস্থিতরা।
এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে। বিষয়টি শুধু প্রশাসনের দায়িত্বহীনতা নয়, একই সঙ্গে এলাকার সচেতন মহলের উদাসীনতাও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। জাতীয় দিবসের মর্যাদা রক্ষায় প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সচেতন ভূমিকা জরুরি বলে মনে করছেন তারা।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সাইদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মহান বিজয় দিবসের মতো দিনে একটি সরকারি স্কুলে জাতীয় পতাকা না থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে জবাবদিহিতা চাওয়া উচিত।
ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা ও সচেতন মহলের দাবি, জাতীয় দিবসে রাষ্ট্রীয় প্রতীক অবহেলা করা হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাদিকুন নাহারের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক রিতা রাণী সরকারের কাছে পতাকা উত্তোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করে বলেন, পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। তারা সবাই দূরে থাকে এজন্য যেতে দেরি হয়েছে। আমি ছুটিতে আছি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শাহী দিলশাদ এলীন বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি ফোন দিচ্ছি।
