back to top

[the_ad id="407"]

মুক্ত গণমাধ্যম: অস্পৃশ্য স্বাধীনতা ও রূঢ় বাস্তবতার ব্যবচ্ছেদ

লেখকঃ রানা সাত্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক

আজ ৩ মে, বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস। ক্যালেন্ডারের পাতায় দিবসটি ঘটা করে এলেও প্রশ্ন জাগে—মুক্ত গণমাধ্যমের ধারণাটি কি কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ, নাকি বাস্তবতার মাটিতে এর শিকড় পৌঁছেছে? আজ যখন দেখি কোনো জনগুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সংগ্রহে ক্যামেরা বের করলেই বাধার প্রাচীর এসে দাঁড়ায়, কিংবা অনুমতি নামক অদৃশ্য শেকল সাংবাদিকের পেশাদারিত্বকে বন্দি করে রাখে, তখন ‘মুক্ত গণমাধ্যম’ শব্দযুগলকে বড়ই উপহাস মনে হয়। যেদিন এ দেশের সাংবাদিকেরা বিনা বাধায়, ভয়হীন চিত্তে ক্যামেরা আর কলম চালাতে পারবেন, কেবল সেদিনই আমরা স্বাধীনতার পূর্ণ স্বাদ আস্বাদন করতে পারব।

​আভিজাত্য বনাম অস্তিত্বের লড়াইঃ
ফিরে তাকালে দেখা যায়, সাংবাদিকতা একসময় কোনো জীবিকা ছিল না; ছিল একটি ঘোর বা ‘নেশা’। সেই সময় এই পেশায় আসতেন মূলত সমাজের বিত্তবান পরিবারের সন্তানেরা। যাদের পিছুটান ছিল না, অভাবের রক্তচক্ষু ছিল না। তাদের কাছে সাংবাদিকতা ছিল সমাজ পরিবর্তনের এক অদম্য শৈল্পিক তাড়না।

​কিন্তু কালের বিবর্তনে সেই চিত্র আজ আমূল বদলে গেছে। আজ যারা এই পেশায় আসছেন, তাদের সিংহভাগই অভাবের সাথে লড়াই করা প্রান্তিক মানুষ। প্রতিদিনের জীবন চালানোর নূন্যতম রসদটুকু জোগাড় করতেই তাদের নাভিশ্বাস উঠছে। এর পেছনে মূল দায়ী আমাদের গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলো। অধিকাংশ হাউজই কর্মীদের সঠিক সময়ে বেতন-ভাতা প্রদানে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। ফলে একজন সাংবাদিক যখন ৫-১০ টাকার রিকশা ভাড়া বা দুপুরের খাবারের চিন্তায় অস্থির থাকেন, তখন তার কলম কতটুকু ধারালো বা আপোষহীন হতে পারে—সেটি এক বিরাট প্রশ্নবোধক চিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

​ডিজিটাল বিপ্লব: মুক্তির নতুন বাতিঘরঃ-
তবে মুদ্রার উল্টো পিঠে আশার আলো দেখাচ্ছে ডিজিটাল বা মাল্টিমিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো। বর্তমানে ফেসবুক, ইউটিউব বা এক্স (সাবেক টুইটার) কেন্দ্রিক সাংবাদিকতা জনমানুষের মধ্যে অভাবনীয় জনপ্রিয়তা পেয়েছে। প্রচলিত গণমাধ্যম যখন কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা কিংবা মালিকপক্ষের স্বার্থ রক্ষায় ব্যস্ত, তখন সাধারণ মানুষ বা নবীন সংবাদকর্মীরা কোনো লাভ-ক্ষতির হিসাব ছাড়াই অপরাধ ও অন্যায়ের চিত্র তুলে ধরছেন।

​এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে সংবাদ আজ বিদ্যুৎগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে, ভাইরাল হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষ খুব দ্রুত ন্যায়বিচার পাচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই এর ইতিবাচক ফলাফল আমাদের চোখের সামনে দৃশ্যমান। প্রাতিষ্ঠানিক গণমাধ্যমের দীর্ঘসূত্রিতাকে পাশ কাটিয়ে এই ডিজিটাল মাধ্যমগুলোই আজ প্রকৃত অর্থে ‘মুক্ত গণমাধ্যম’ হিসেবে কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।

পরিশেষে,
গণমাধ্যম দিবসের এই দিনে আমাদের আত্মোপলব্ধির প্রয়োজন। কেবল লোগো আর নামসর্বস্ব স্বাধীনতা নয়, প্রয়োজন সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও আর্থিক স্বচ্ছলতা। যেদিন পেট আর বিবেকের মধ্যে সংঘাত হবে না, কেবল সেদিনই কলম হয়ে উঠবে শাণিত তরবারি। নতুবা ‘মুক্ত গণমাধ্যম’ দিবসটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতার আবর্তেই আটকা পড়ে থাকবে।

সর্বশেষ

আরও খবর >

- Advertisement -Newspaper WordPress Theme