রাজধানীর অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ও স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির নিয়মিত নির্বাচন নিয়ে নানা রকম তালবাহানা ও কালক্ষেপণের অভিযোগ উঠেছে।
একটি নির্দিষ্ট চক্র গভর্নিং বডির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে পরিকল্পিতভাবে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করছে বলে দাবি সাধারণ অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের। দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত কমিটি না থাকায় প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, বর্তমান আহবায়ক কমিটি কিংবা অন্তর্বর্তীকালীন কর্তৃপক্ষ আইনি জটিলতার অজুহাত দেখিয়ে নির্বাচন দেওয়ার বিষয়ে উদাসীনতা দেখাচ্ছে। তফসিল ঘোষণার ক্ষেত্রেও বারবার আইনি জটিলতার অজুহাত দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে সাধারণ অভিভাবকেরা অভিযোগ করেছেন ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃতভাবে ধীরগতি নীতি অবলম্বন করা হচ্ছে, যাতে বর্তমান মেয়াদ আরও দীর্ঘায়িত করা যায়। ফলে প্রতিষ্ঠানটির মতিঝিল, বনশ্রী ও মুগদা তিনটি শাখার সাধারণ অভিভাবকদের মধ্যে এই নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
উজ্জল সরকার নামে একজন অভিভাবক জানান, আমরা চাই আমাদের সন্তানদের স্কুলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সৎ এবং যোগ্য অভিভাবক প্রতিনিধিরা আসুক। কিন্তু একটি স্বার্থান্বেষী মহল নির্বাচন না দিয়ে বাঁকা ও পিছনের পথ দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি নিয়ন্ত্রণ করতে চাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানাচ্ছে, প্রতিবারই নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এলে কোনো না কোনো পক্ষ থেকে আদালতে রিট বা শিক্ষা বোর্ডে অভিযোগ দায়ের করা হয়। অনেকেই মনে করছেন এই রিট বা অভিযোগগুলো নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে ঝুলিয়ে রাখার একটি কুট-কৌশলী প্রকৃয়া।
শিক্ষানুরাগী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করেন, আইডিয়াল স্কুলের মতো একটি মেগা প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও মান ধরে রাখতে একটি নির্বাচিত এবং জবাবদিহিমূলক গভর্নিং বডি থাকা অপরিহার্য। অনতিবিলম্বে সব তালবাহানা বন্ধ করে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচনের জোর দাবি জানিয়েছেন সাধারণ অভিভাবকেরা।
এ বিষয়ে আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সভাপতি এস এম জহরুল ইসলামের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত নির্বাচন সম্পন্ন করতে চান। ভোটার তালিকা সম্পূর্ণ নির্ভুল করার কাজ চলছে এবং শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা পেলেই দ্রুত তফসিল ঘোষণা করা হবে।
