চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় একের পর এক শিল্পকারখানা গড়ে উঠলেও স্থানীয় শিক্ষিত ও দক্ষ তরুণদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হওয়ায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে। কোরিয়ান ইপিজেড, কাফকো, সিএফএল ও চায়না ইকোনমিক জোনসহ গুরুত্বপূর্ণ শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার পরও স্থানীয় অনেক শিক্ষিত তরুণ চাকরির আশায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ঘুরছেন বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, আনোয়ারার মাটিতে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মসংস্থানের সুযোগে স্থানীয় যোগ্য তরুণদের অগ্রাধিকার কেন থাকবে না?
এলাকাবাসীর ভাষ্য, শিল্পায়নের বিরোধিতা নয়, বরং শিল্পায়নের সুফল স্থানীয় জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়াই তাদের মূল দাবি। বিশেষ করে শিক্ষিত ও দক্ষ বেকার তরুণদের জন্য যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরির সুযোগ সৃষ্টি, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং স্থানীয়দের জন্য অগ্রাধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সম্প্রতি এ বিষয়ে স্থানীয় পর্যায়ে কথা বলা ও প্রতিবাদ কর্মসূচির উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা স্থগিত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তখন বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়নি বলে দাবি স্থানীয়দের।
এদিকে আনোয়ারা উপজেলার ৮নং চাতরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট নুরুল কবির রানা স্থানীয় শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থানের দাবিতে কথা বলেছেন। তাঁর এ দাবির সঙ্গে শিক্ষিত তরুণ ও সাধারণ মানুষের একটি অংশও সংহতি প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আনোয়ারা ও কর্ণফুলী এলাকার বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোথাও কোথাও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে চাকরি দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে। তবে এ অভিযোগের কোনো স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
সচেতন মহলের মতে, শিল্পায়নকে টেকসই করতে হলে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় জনগণের সমন্বয়ে একটি স্বচ্ছ নিয়োগব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
স্থানীয় তরুণদের দাবি—কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আনোয়ারার শিল্পকারখানাগুলোতে যোগ্য স্থানীয় তরুণদের জন্য বাস্তব ও অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা হোক।
শিল্প হোক, বিনিয়োগ বাড়ুক—তবে সেই উন্নয়নের সুফল আনোয়ারার মানুষের ঘরেও পৌঁছাক।
