ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের সোয়ায়েতপুর গ্রামের আলোচিত বাংলাদেশ কাস্টমসের নিরাপত্তা শাখায় কর্মরত সিপাহি রায়হান তালুকদারের ১৫ টুকরো করা প্রধান আসামি ও সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল রেল স্টেশনে অভিযান চালিয়ে কেয়ারটেকার রাজু ও সহযোগী জিতুলকে গ্রেফতার করা হয়।
গত ৪ই আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে ফুলবাড়ীয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়। গ্রেপ্তার কৃত রাজু রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের অনন্তপুর গ্রামের ফজলু মির্জার ছেলে জিতুল একই গ্রামের সুরুজ মির্জার ছেলে জিতুল দুই বন্ধু সম্পর্কে চাচা ভাতিজা। গ্রেফতার এড়াতে তারা ২৪ দিন পলাতক ছিল ।
বুধবার (২৬ আগষ্ট) গ্রেফতারের পর তাদেরকে হত্যার ঘটনাস্থল নিয়ে যায় পুলিশ সেখান থেকে হত্যার সাথে ব্যবহৃত কাঠের টুকরো চাপাটি লোহার রড চাকুসহ বেশ কিছু আলামত উদ্ধার করেন।
সহকারী পুলিশ সুপার ( ত্রিশাল সার্কেল) এস এম হাসান ইস্রাফীল জানান, আসামিদের গ্রেফতারের জন্য প্রশাসনের কয়েকটি টিম প্রায় মাস খানেক ধরে অভিযান পরিচালনা করে আসছে। আসামিরা বিভিন্ন সময় ঢাকা,চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট ও সর্বশেষ মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে অবস্থান করছিলেন। ফুলবাড়িয়া থানার পুলিশ প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত এস আই শুভ্রত’র নেতৃত্বে চৌকস দল ৪ দিন একটানা অভিযান পরিচালনা করে আসামীদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। পরে বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে আলামত সংগ্রহের জন্য খুনের ঘটনা স্থলে আসামীদের নিয়ে আসা হয়। পরে সেখান থেকে খুনের আলামত হিসেবে স্টেইনলেস স্টিলের চাপাতি,ধারালো চাকু, রক্তমাখা বালিশ-কভার-তুলা,লোহার রড, কাঠের গুড়ি উদ্ধার করি। এখন আইনগত পক্রিয়া শেষ করব। আগামীকাল ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি স্যার) বিস্তারিত জানিয়ে বিফ্রিং দিবেন বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, রায়হান তালুকদার নিখোঁজের ১০দিন পর বাড়ির পাশের পরিত্যক্ত পুকুর থেকে ৩ পুটলায় ১৫ টুকরো লাশ ও ২৪ দিন পর ( এক মাসের মধ্যে) প্রধান দুই আসামি গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে ফুলবাড়িয়া থানা পুলিশ।
