গত ১৫ বছর দেশে সাংবাদিকেরা স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারেননি উল্লেখ করে দৈনিক মানবকণ্ঠের সম্পাদক ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বলেছেন, ওই সময়ে সাংবাদিকদের একটি অংশ সংবাদমাধ্যমকে দলীয় প্রচারযন্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে। গণতন্ত্র ও দেশের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে একপক্ষীয়ভাবে গণমাধ্যম পরিচালনা করা হয়েছিল।
গতকাল শনিবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীতে দৈনিক মানবকণ্ঠের চট্টগ্রাম বিভাগীয় ব্যুরো অফিস উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে, ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যুরো অফিসের উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ‘ভিওডি বাংলা’ (VOD Bangla)-এর পক্ষ থেকে দৈনিক মানবকণ্ঠের চট্টগ্রাম ব্যুরো অফিস উদ্বোধন উপলক্ষে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। ভিওডি বাংলার চট্টগ্রাম প্রতিনিধি রানা সাত্তার দৈনিক মানবকণ্ঠের চট্টগ্রাম বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান মুহাম্মদ আজাদেরসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ফুল দিয়ে এই নতুন শুভযাত্রার সংহতি ও উষ্ণ অভিনন্দন জানান।
উদ্বোধনী আলোচনায় সম্পাদক শহীদুল ইসলাম আরও বলেন, জুলাই বিপ্লবের পর দেশের সংবাদমাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। গণমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে না দিলে দেশে গণতন্ত্র কখনো বিকশিত হবে না এবং জনগণ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবেন। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে দৈনিক মানবকণ্ঠের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সৌরভ হাসান ভূঁইয়া বলেন, চট্টগ্রাম কেবল দেশের বাণিজ্যিক রাজধানীই নয়, বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার এক উর্বর ক্ষেত্র। মানবকণ্ঠ সবসময় সাধারণ মানুষের সত্য ও ন্যায়ের কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই ব্যুরো অফিসের মাধ্যমে চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষের সম্ভাবনা ও সমস্যার কথাগুলো জাতীয় পরিমণ্ডলে আরও জোরালোভাবে উঠে আসবে।
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক আমার দেশের আবাসিক সম্পাদক জাহিদুল করিম কচি বলেন, চট্টগ্রামের সাংবাদিকতার ঐতিহ্য অত্যন্ত সমৃদ্ধ। দৈনিক মানবকণ্ঠ পাঠকের ট্রাস্ট ও ভরসার জায়গা ধরে রাখতে কাজ করে যাচ্ছে। নতুন ব্যুরো অফিস চালুর মাধ্যমে এই অঞ্চলের গণমানুষের না-বলা কথাগুলো জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
দৈনিক মানবকণ্ঠের চট্টগ্রাম বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান মুহাম্মদ আজাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও বৈশাখী টেলিভিশনের ব্যুরো প্রধান গোলাম মাওলা মুরাদ, এনটিভির বিশেষ প্রতিনিধি ও ব্যুরো প্রধান শামসুল হক হায়দরী, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিএমইউজে) সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমান, সিএমইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক ও একাত্তর টিভির ব্যুরো প্রধান সাইফুল ইসলাম শিল্পী এবং আমার দেশ পত্রিকার ব্যুরো প্রধান সোহাগ কুমার বিশ্বাস।
রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি গাজী মুহাম্মদ সিরাজ উল্লাহ, নগর বিএনপি আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কামরুল ইসলাম ও জাতীয় পার্টির নগর আহ্বায়ক আবু তাহের। এছাড়া সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোস্তফা নূর, চট্টগ্রাম কর আইনজীবী সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন ও কালের কণ্ঠের সিনিয়র রিপোর্টার ফারুক মুনির বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ফারুক আবদুল্লাহ, সারাবাংলার ব্যুরো প্রধান তৌহিদুল ইসলাম, রূপালী বাংলাদেশের স্টাফ রিপোর্টার শাহাব উদ্দিন, নয়াদিগন্তের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মিজান ফারাবী, কালের কণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি ইসহাক হোসাইন, চ্যানেল নাইনের জুনায়েত হোসাইন ও এশিয়ান টিভির চিত্রসাংবাদিক মোহাম্মদ রুবেল।
মানবকণ্ঠের চট্টগ্রাম ব্যুরোর কর্মী ও প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্টাফ রিপোর্টার চৌধুরী মাহবুব, আবু হোসাইন খান, ফটো সাংবাদিক নীল কমল সুশীল এবং মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার পারভেজ রেজাসহ বিভিন্ন উপজেলার প্রতিনিধিবৃন্দ।
