সরকারি কোন লাইসেন্স নেই, ট্যাক্স ভ্যাটসহ কোন ধরণের রাজস্ব দেয়না এরপরও জমজমাট মেজবানি ও ওরশ বিরিয়ানি অবৈধ ব্যবসা চলছে চট্টগ্রামে।
রমজান মাসকে কেন্দ্র করে অবৈধ এ ব্যবসা শুরু হলেও এখনো চালিয়ে যাচ্ছে অসাধু কিছু ব্যবসায়ী। এই অবৈধ কারবারের কারণে বৈধ হোটেল রেঁস্তোরা ব্যবসায়িদের মাথায় হাত। সরকারি জায়গা দখল করে ও প্যান্ডেল ত্রিপল টাঙ্গিয়ে এ ব্যবসা দেদারছে চললেও যেন দেখার কেউ নেই।
জানা গেছে, বৈধভাবে রেঁস্তোরা ব্যবসা করতে হলে জেলা প্রশাসনের অনুমতি, সিটি করপোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স, পরিবেশের ছাড়পত্র, ফায়ার লাইসেন্স, ওয়াসা, গ্যাস, স্যানিটেশন, ভোক্তা অধিকারসহ কমপক্ষে ১২টি লাইসেন্স নিতে হয়। আয়কর ও ভ্যাট দিতে হয় ব্যবসার উপর ভিত্তি করে। এছাড়াও অস্থায়ী ব্যবসার ক্ষেত্রেও সিটি করপোরেশন রাজস্ব পরিশোধ করতে হয়। কিন্তু অস্থায়ীভাবে গড়ে উঠা এসব ব্যবসার কোন লাইসেন্স নেই। দুর্গন্ধ ময়লা আবর্জনা পরিবেশে অবৈধভাবে এ ব্যবসায় মানা হয়না স্বাস্থ্যবিধি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, চট্টগ্রামে মইজ্জার টেক এলাকায় সিডিএ আবাসিকের একটি প্রধান সড়ক দখল করে আকাশ বিরিয়ানি নামে করে যাচ্ছেন মানুষ ঠকানো ব্যবসা। ১২০টাকায় বিরিয়ানির যে প্যাকেজ রাখা হয়েছে তাতে একজন মানুষ তো দুরের কথা একজন ৭/৮ বছরের ক্ষুদাও মিটবে না, তারমধ্যে ভাতে মাংস খুঁজে বের করতে মাইক্রোস্কোপের প্রয়োজন হয়। মাইক্রোস্কোপ দিয়ে কারো কারো ভাগ্যে ২-৩ পিছ মাংসের গুড়ি পাওয়া যেতে পারে।অনেকের ভাগ্য আবার তাও জুটে না।তারপরও চলছে এই আকাশ বিরিয়ানি।
এছাড়াও নগরীতে রয়েছে, কাজির দেউড়ী ইন্টারন্যাশনার কনভেনশন হ’লের মাঠে আবুল বাবুর্চির ইফতারী নামে ব্যবসা পরিচালনা করছেন এ কনভেনশন হ’লের মালিক মোহাম্মদ রফিক। সিআরবির রেলওয়ের জায়গা দখল করে ওরশ বিরিয়ানির ব্যবসা করছেন মোহাম্মদ সুমন, সিডিএ মার্কেট দুই নং গেটে নালার পাশে মেজবান ও বিরিয়ানি বিক্রি করছেন মো. এরফানুল আলম, অলংকার এলাকায় শাহ ওরশ বিরিয়ানির ব্যবসা করছেন তারেকুল হক, এভাবে চট্টগ্রামের লাভলেইন ওরশ বিরিয়ানি, কর্ণফুলী মইজ্জ্যার টেক এলাকায় আকাশ বিরিয়ানি, পতেঙ্গায় ওরশ বিরিয়ানি নামে অবৈধ ব্যবসা জমজমাটভাবে চলছে।
এতে অন্য বৈধ হোটেল রেঁস্তোরার ক্ষতি করছেন কি-না জানতে চাইলে তারা বলেন, অন্য ব্যবসায়িদের ক্ষতি হবে কেন। ব্যবসা সবাই করতেছে। এখানে কমদামে পাচ্ছেন বিধায় ক্রেতারা এখানে আসে। অন্যদের ক্ষতি হওয়ার বিষয়টি আমার দেখে লাভ কি।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা সাব্বির রহমান সানি বলেন, সরকারকে রাজস্ব না দিয়ে এ ব্যবসা সম্পূর্ণ অবৈধ। অস্থায়ী ব্যবসা করতে হলে সিটি করপোরেশনকে রাজস্ব দিতে হবে। খতিয়ে দেখে এ সব প্রতিষ্ঠান থেকে রাজস্ব আদায় করা হবে।
কনজ্যুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ চট্টগ্রামের সভাপতি এস এম নাজের হোসেন বলেন, নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা এসব অনিয়ম দেখার কথা। কিন্তু ওই সংস্থার কোন কর্মকর্তাকে মাঠে দেখা যায় না। এ সুযোগে অবৈধ ও অনিরাপদ খাবার ব্যবসা জমজমাটভাবে চালু হয়েছে।
রেঁস্তোরা মালিক সমিতি চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক আবদুল হান্নান বাবু বলেন, এ সব অবৈধ ব্যবসার কারণে বৈধ রেঁস্তোরা মালিকরা ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। অথচ একটি রেঁস্তোরা থেকে সরকার নানা ভাবে রাজস্ব পায়। প্রতিবছর ১০ থেকে ১২ টি লাইসেন্স নবায়ন করতে হয়। আয়কর ও ভ্যাট দিতে হয়। অবৈধ এ ব্যবসায়িরা কিছু দেয় না অথচ ব্যবসা করছে দেদারছে।
