সরকারি দপ্তরের চাকুরীর গ্রেড অনুযায়ী বাসা বরাদ্দ হওয়ার কথা থাকলেও চট্টগ্রাম ওয়াসায় বাসা বরাদ্দে রয়েছে অনিয়ম। গত ১৬ বছরে তাদের বিভিন্ন বাসা বরাদ্দ হয়েছে গ্রেড অনুযায়ী হওয়ার নিয়ম বর্হিঃভূত।
চট্টগ্রামের মোহরা এলাকায় অবস্থিত ওয়াসার বিশাল এক জায়গা জুড়ে রয়েছে স্টাফ অফিসার কোয়ার্টার। মূলত এই আবাসিক বিল্ডিং গুলো ওয়াসা কর্তৃপক্ষ করেছে ওয়াসায় কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য। তবে বাসা গুলি বরাদ হওয়ার কথা চাকুরির গ্রেড অনুযায়ী।
কিন্তু এই অফিসার্স কোয়ার্টার গুলো অযত্নে অবহেলায় সংস্কারের অভাবে সিনিয়র অফিসার বা জুনিয়র অফিসার কেউ থাকছে না। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে ১৫ বছরে ওয়াসার শ্রমিক লীগের সাথে আতাত করে ১৮ তম গ্রেডের কর্মচারী পাম্প অপারেট কাজী মহিন উদ্দিন মানিকসহ ও আরো কিছু পাম্প অপারেটর, কিছু পিয়ন দীর্ঘ ৭ বছর ভোগ করেছেন ৯ম গ্রেডের সহঃ উপ প্রকৌশলীর এই অফিসার্স কোয়ার্টার গুলি।
যদিও ১৮ তম গ্রেডের বাসা ভাড়া ও ৯ম গ্রেডের বাসা ভাড়া সরকারি ভাবে আলাদা ভাড়া থাকলেও তারা সে ভাড়া পরিশোধ করে না । কিন্তু দীর্ঘ বছর ধরে ভোগ করছেন ৯ম গ্রেডের এই বাসা গুলি।। আর ভাড়া দিচ্ছেন ১৮ তম গ্রেডের।
তবে বিগত বছরগুলোতে যে পরিমাণ ভাড়া আসার কথা সে পরিমাণ ভাড়া না পেয়ে সরকারি একটি বড় রাজস্ব হারাচ্ছে চট্টগ্রাম ওয়াসা।
এ ছাড়াও কাজী মহিন উদ্দিন মানিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তার চাকরি ২য় তালিকাভুক্ত স্থায়ী হওয়ার আরো পরে যোগদান করেন তিনি। কিন্তু তৎকালিন আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ১ম স্থায়ীকরনের তালিকা অনুযায়ী ডিউটি না করেও অবশিষ্ট বেতন উত্তোলন ও ভোগ করেন তিনি।
তবে এবিষয়ে মানিক এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্যামেরার সামনে কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি। আর অকপটে স্বীকার করেন বাসাটি আবেদনের প্রেক্ষিতে বরাদ্দ পেয়েছেন তিনি। কিন্তু কাগজ দেখাতে বললে কোন কাগজ দেখাতে পারেনি । বাসা পাওয়ার ব্যাপারে আওয়ামী লীগ সরকারের শ্রমিক লীগের সাথে আতাত এর বিষয়টি প্রশ্ন করতেই তিনি বলেন,ওয়াসার মধ্য এইরকম অনেক দোসর বসে আছে। তিনি আরো বলেন, সাবেক এমডি হটানোর ছাত্রদের পক্ষে বা বিপক্ষে আমাদের অবস্থান ছিল না। আন্দোলন দিয়ে আমি কি করবো? এইরকম দোসর তো এখনো আছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়াসার সচিব বলেন ,
বাসা গুলি এমনি পরে থাকে, কেও থাকতে না চাওয়ার কারনে মৌখিক ভাবে অনেক স্টাফ কে দিয়ে দেয়া হয়েছে। আসলে বাসাটি তার পদ মর্যাদা অনুযায়ী তিনি পান না। অফিস না করে বেতন উত্তোলনের বিষয়ে তিনি জানেন না এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান ।
এ বিষয়ে ব্যাবস্থাপনা পরিচালক’র সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি তার ব্যস্ততা দেখিয়ে ডিএমডি’র রুমে যেতে বলেন। আর ডিএমডি’র বক্তব্যের জন্য গেলে তিনি ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে রাজি হননি। পরবর্তীতে ব্যবস্থাপনা পরিচালক এর সাথে কথা বলে জানাবে বলে দায় সাড়েন তিনি।
