ফুলবাড়ীয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সনদ নিতে গিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টার অপেক্ষায় ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছেন ভুক্তভোগি ও তার স্বজনেরা।
বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে এমন দৃশ্য দেখা যায়। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মচারী আকরাম হোসেন এর বিরুদ্ধে অশালীন আচরণ এবং হয়রানির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধীরা। তার আচরণে বিপাকে পড়েছেন শতাধিক প্রতিবন্ধী সেবা গ্রহীতা।
ভুক্তভোগী পারভিন আক্তার বলেন, সনদ নিতে গিয়ে আমাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। আকরাম সব সময় রাগের সঙ্গে কথা বলেন, কখনো কখনো অপমান করেন। এমন আচরণ আমরা প্রাপ্য নই।
আরেক ভুক্তভোগী মোহাম্মদ ইয়াসিন বলেন, প্রতিবন্ধী হিসেবে আমরা সরকারি সহায়তা নিতে এসেছি, কিন্তু সেবা না পেয়ে উল্টো অপমানের শিকার হচ্ছি। টাকা দিলে সাথে সাথে কাজ করে দেয়।
এ বিষয়ে ফুলবাড়ীয়া একতা শক্তি যুব সংঘের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোরশেদ খান বলেন, প্রতিবন্ধীদের সনাক্তকরণ ফর্মে স্বাক্ষরের জন্য আকরামের মাধ্যমে ডাক্তারদের টাকা দিতে হয়। টাকা না দিলে শুরু হয় হয়রানি। এই অন্যায় বন্ধ করতে প্রশাসনের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, প্রতিবন্ধীরা সমাজের মর্যাদাপূর্ণ নাগরিক; তাদের প্রতি মানবিক ও সম্মানজনক আচরণ নিশ্চিত করা প্রতিটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। প্রশাসন যদি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তবে এ ধরনের অনিয়ম স্বাস্থ্যসেবার প্রতি মানুষের আস্থা আরও নষ্ট করবে।
অন্যদিকে এনসিপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার ওমর শরীফ বলেন, প্রতিবন্ধীরা সমাজের অবহেলিত অংশ। তাঁদের সঙ্গে এমন আচরণ লজ্জাজনক। আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করছি, দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
অভিযুক্ত কর্মচারী আকরাম হোসেন বলেন, পরিষদের ভেতরে ডাক্তারের সাথে ঝামেলা হয়েছে, ডাক্তার ছুটিতে গেছে ছুটি থেকে আসলে স্বাক্ষর দিবেন।
এ বিষয়ে ফুলবাড়ীয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ হাসানুল হোসেন বলেন, আমার কাছে এই ধরনের কোনো অভিযোগ কেউ করেনি।
