আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) সংসদীয় আসনে ভোটের মাঠে লড়াইয়ে নেমেছেন চাচী-ভাতিজা। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী করছেন ভাতিজা বর্তমান উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আখতারুল আলম ফারুক অপর দিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ফুটবল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন প্রয়াত এমপি মরহুম ইঞ্জিনিয়ার শামছ উদ্দিন আহমেদ এর সহধর্মিণী অধ্যক্ষ আখতার সুলতানা । আক্তারুল আলম ফারুক ও আক্তার সুলতানা সম্পর্কে চাচি ভাতিজা। এ নিয়ে উপজেলার ভোটারদের মধ্যে নানা কৌতূহল দেখা দিয়েছে। কে যাবেন জাতীয় সংসদে? চাচী-ভাতিজা, নাকি অন্য কোনো প্রার্থী। তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী থাকলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু চাচী-ভাতিজা । চাচা একসময় এমপি ছিলেন এবং এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন সে সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইতিমধ্যে চাচী আক্তার সুলতানা মানুষের কাছে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন অপরদিকে ভাতিজা আক্তারুল আলম ফারুক নেতা কর্মীদেরকে সাথে নিয়ে ধানের শীষের ভোট চাচ্ছেন। পাল্টাপার্টি বক্তব্য কর্মসূচি মিছিলের স্লোগান নিয়েই ফুলবাড়িয়ায় চাচি ভাতিজার ভোটযুদ্ধ জমে উঠেছে।
১৩টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় নিয়ে গঠিত। উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৪১৭৯২৭ জন এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২১০৩৩০জন, নারী ভোটার ২০৭৫৯৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোট রয়েছে ২ জন। চাচি ভাতিজার ভোট যুদ্ধের ব্যাপারে আছিম পাটুল ইউনিয়নের নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মী বলেন, চাচি ভাতিজার বাড়ী একই গ্রাম এবং একই বাড়িতে হওয়ায় কিছুটা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে সাধারণ ভোটারদের। জয় পরাজয় নিয়ে কাউকে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। বিএনপি’র ইউনিয়ন নেতারা বলেন, আমরা পড়েছি বিপদে দীর্ঘদিন শামসুদ্দিন সাহেবের সাথে রাজনীতি করেছি এখন তো আর সে নেই, তার সহধর্মিনী নির্বাচন প্রার্থী হয়েছেন আমরা যারা সাবেক এমপি শামসুদ্দিন স্যারের সাথে রাজনীতি করেছি তারা পড়েছি বিপদে, একদিকে দল, অন্যদিকে আপনজন , দেখা যাক কি হয়! পুটিজানা ইউনিয়ন যুবদলের নেতা সবুজ মন্ডল বলেন, আমরা আক্তারুল আলম ফারুকের ভাইয়ের পক্ষে আছে, দল আমাদের সাথে আছে, দলের সমস্ত নেতাকর্মী তার পক্ষে কাজ করছে সুতরাং বিজয় ফারুক ভাইয়েই হবে ইনশাআল্লাহ। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে , চাচি ভাতিজার লড়াই তত বেশি জমে উঠছে। ভোটারদের মধ্যে বইছে আলোচনা সমালোচনার ঝড়।
এর আগে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে বাবা নৌকা প্রতীক ও মেয়ে ঈগল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় এলাকা ছাপিয়ে বিষয়টি নিয়ে জেলা জুড়ে আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিনত হয়। বাবা-মেয়ে ভোটযুদ্ধে শেষ পর্যন্ত কেউ বিজয়ী হতে পারে নি।
এ আসনে অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত অধ্যাপক মুহাঃ কামরুল হাসান মিলন দাড়িপাল্লা, স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যাপক মোঃ জসিম উদ্দিন ঘোড়া , ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীক নিয়ে মাঠে আছেন মুফতি নূরে আলম সিদ্দিকী ।
