খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফ সদস্য পরিচয় দিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগে মোঃ রিয়াজ উদ্দিন (৩৪) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
তিনি দিঘীনালা উপজেলার ২নং বোয়ালখালী ইউপির, ৪নং ওয়ার্ডের পশ্চিম থানাপাড়া এলাকার মৃত মোশারফ হোসেন ও নাছরিন বেগম এর ছেলে। বর্তমানে সে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার শান্তিনগরে (রাসেল মিয়ার ভাড়াটিয়া) বসবাস করছেন।
পুলিশ জানায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সদর উপজেলার ঠাকুরছড়া পিটিআই এলাকায় নিজ জমিতে কাজ করার সময় খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার আরামবাগ এলাকার হার্ডওয়ার ব্যবসায়ীকে ফোন করে নিজেকে ইউপিডিএফ সদস্য পরিচয় দেয় এবং ব্যবসায়ীর কাছে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। ভয়ে ব্যবসায়ী প্রথমে নগদ অ্যাকাউন্টে মাধ্যমে ৪ হাজার টাকা দেন। তবে পরবর্তীতে বাকি টাকা চাইলে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তিনি খোঁজ নিতে শুরু করেন।
পরবর্তীতে একই তারিখ রাত অনুমান সাড়ে ৭ টার দিকে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি পুনরায় বাদীকে ফোন করিয়া তাহার চাঁদা বাবদ দাবিকৃত বাকী ১৬ হাজার টাকা পাঠানের জন্য বলে। বাদী অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির কথাবার্তা সন্দেহ জনক মনে হওয়ায় তাকে ভিডিও কল দেওয়ার জন্য বলিলে অজ্ঞাতনামা ব্যাক্তি ফোন কেটে দিয়ে তার মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেয়।
তদন্তে জানা যায়, প্রেরিত অর্থ খাগড়াছড়ি পানখাইয়া পাড়া এলাকার মোঃ সৈকতের নগদ অ্যাকাউন্টে গেছে। ব্যবসায়ী সৈকতের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ঘটনাটির সঙ্গে রিয়াজ উদ্দিন জড়িত।
এই তথ্যের সূত্র ধরে স্থানীয়দের সহায়তায় গত ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে খাগড়াছড়ি খেজুর বাগান মসজিদের সামনে থেকে রিয়াজ উদ্দিনকে রাত্রী কালীন মোবাইল ডিউটিতে নিয়োজিত এএসআই (নিঃ) প্রশান্ত কুমার এর নেতৃত্বে পুলিশ আটক করে। তবে তার সহযোগী সৈকত পালিয়ে যায়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রিয়াজ প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ ইউপিডিএফ এর পরিচয় ব্যবহার করে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে আসছিল।
খাগড়াছড়ি সদর থানার ওসি আব্দুল বাতেন মৃধা বলেন, আটক রিয়াজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা (নং-০২, জিআর-৮০) দায়ের হয়েছে। পেনাল কোডের ৩৮৫/৪০৬/৪২০/৩৪ ধারায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত চলছে এবং তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
