নওগাঁর মান্দায় চোর সন্দেহে রফিকুল ইসলাম (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার প্রসাদপুর কওমি মাদ্রাসা এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত রফিকুল ইসলাম উপজেলার জিনার গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার ভোর রাতে প্রসাদপুর কওমি মাদ্রাসা এলাকায় রফিকুল ইসলামকে ঘোরাঘুরি করতে দেখে চোর সন্দেহে আটক করেন মাদ্রাসার শিক্ষকরা। অভিযোগ রয়েছে, আটকের পর তাকে মাদ্রাসার মাঠের একটি আম গাছের সাথে দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলা হয়। এরপর সেখানে তাকে বেধড়ক মারপিট করা হয়। দীর্ঘক্ষণ নির্যাতনের ফলে ঘটনাস্থলেই রফিকুলের মৃত্যু হয়।
সকালে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কেউ যদি অপরাধ করে থাকে তবে তাকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করাই আইনি প্রক্রিয়া। কিন্তু এভাবে গাছে বেঁধে পিটিয়ে মেরে ফেলা চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন। তারা এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মাসুদ রানা জানান, “সকাল সাড়ে ৬টার দিকে আমরা সংবাদ পাই যে, প্রসাদপুর কওমি মাদ্রাসায় চোর সন্দেহে একজনকে গণপিটুনি দিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। খবর পেয়ে আমি নিজে ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করি।”
তিনি আরও জানান, সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবার যদি মামলা দায়ের করে তবে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর পরিবার মামলা না করলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
