চট্টগ্রামে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে চাঞ্চল্যকর হামলা ও আন্ডারওয়ার্ল্ড সিন্ডিকেটের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে যশোর থেকে গ্রেপ্তার করেছে বিজিবি। মঙ্গলবার রাতে যশোর শহরের ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয় এবং পরদিন বুধবার সকালে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগে অপরাধ জগতে ডেভিড ইমনের কোনো উল্লেখযোগ্য পরিচয় ছিল না। তবে পরবর্তীতে সে বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদ গ্রুপে যোগ দিয়ে দ্রুতই তার সেকেন্ড-ইন-কমান্ডে পরিণত হয়। এরপর থেকে চট্টগ্রাম শহরের চন্দনপুরা এক্সেস রোডে প্রাইভেট কারে গুলি করে জোড়া খুন, পতেঙ্গা সৈকতে সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যা এবং সরোয়ার হোসেন বাবলা হত্যাসহ একাধিক স্পর্শকাতর অপরাধে তার নাম উঠে আসে। সম্প্রতি চট্টগ্রাম শহরের ডিজিটাল ডটনেট নামে একটি ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে অতর্কিত হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর এবং ৩৫ লাখ টাকার মালামাল ও নগদ অর্থ লুটের ঘটনায় সে নতুন করে আলোচনায় আসে।
এই হামলার পর অনুসন্ধানে উঠে আসে চট্টগ্রাম আন্ডারওয়ার্ল্ডের ভয়ংকর ‘থ্রি-টায়ার’ বা তিন স্তরের প্রাতিষ্ঠানিক অপরাধ কাঠামোর চিত্র। এই সিন্ডিকেটের প্রথম স্তরে রয়েছে বিদেশে রাজনৈতিক আশ্রয়ে বা আত্মগোপনে থাকা বড় সাজ্জাদ বা হাবীব খানের মতো শীর্ষ গডফাদাররা, যারা ফ্রান্স বা মধ্যপ্রাচ্যে বসে ইন্টারনেট কলিং অ্যাপ ব্যবহার করে চাঁদা দাবি ও হামলার নীলক নকশা তৈরি করে। দ্বিতীয় স্তরে রয়েছে ডেভিড ইমনের মতো উঠতি সন্ত্রাসী এবং সমাজের কিছু পেশাজীবী বা ব্যবসায়ী ইনফর্মার, যাদের কাজ ভুক্তভোগীর ব্যাংক বা পরিবারের নিখুঁত তথ্য গডফাদারদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। আর তৃতীয় স্তরে রয়েছে স্থানীয় কিশোর গ্যাং বা ভাসমান অপরাধীদের সমন্বয়ে গঠিত হিট স্কোয়াড, যাদের মূল গডফাদারদের বিষয়ে কোনো ধারণা থাকে না অথচ মাত্র ৫ থেকে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে ফাঁকা গুলি বা ভাঙচুর চালিয়ে এলাকায় আতঙ্ক তৈরি করে। ডেভিড ইমনের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে চট্টগ্রামের এই অপরাধ চক্রের শিকড় উপড়ে ফেলা সম্ভব হবে বলে আশা করছে পুলিশ।
