২০২৬ সালের এসএসসি, দাখিল ও ভোকেশনাল পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে গতকাল ১০ আগস্ট। ঘোষিত ফলাফলে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের আওতাধীন রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় এসএসসি, দাখিল ও ভোকেশনালে শতকরা পাশের হার যথাক্রমে ৫৩.৫৫%, ৫৯.৬৫% ও ৬০.১৫%।
উপজেলায় এ বছর ৪১টি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মোট ৩০৫৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাশ করেছে ১৬৩৬ জন, শতকরা পাশের হার ৫৩.৫৫%, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৯ জন। ১৫টি মাদরাসা থেকে ৬৭৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাশ করেছে ৪০৫ জন, শতকরা পাশের হার ৫৯.৬৫ % এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ জন। ভোকেশনালে ৪টি প্রতিষ্ঠান থেকে ২৬১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাশ করেছে ১৫৭ জন, শতকরা পাশের হার ৬০.১৫%, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ জন। রাঙ্গুনিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রকাশিত ফলাফলের প্রতিষ্ঠানভিত্তিক তালিকা থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
৪১টি উচ্চ বিদ্যালয়ের মধ্যে শতকরা পাশের হারের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে পোমরা শহীদ জিয়ানগর উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৪৮জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ৩৫জন পাশ করে এবং ১৩জন অকৃতকার্য হয়। পাসের হার ৭২ দশমিক ৯২ শতাংশ। এছাড়া রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ১৪ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। পোমরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১১ জন, উত্তর রাঙ্গুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৮ জন,রাঙ্গুনিয়া মজুমদারখীল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৭জন, দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া শিলক বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়,পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, উত্তর পোমরা উচ্চ বিদ্যালয় ও পোমরা উচ্চ বিদ্যালয় প্রত্যেকটি থেকে ৪জন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে।
প্রকাশিত তালিকায় দেখা যায়, কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে পাশের হার ৬০ শতাংশের বেশি হলেও কিছু প্রতিষ্ঠানে পাশের হার ৫০ শতাংশের নিচে রয়েছে। ফলে উপজেলার প্রতিষ্ঠানভেদে ফলাফলে বেশ পার্থক্য দেখা গেছে।
উপজেলার ১৫টি মাদরাসার দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে শতকরা পাসের হারের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে রাঙ্গুনিয়া নুরুল উলুম কামিল মাদরাসা। প্রতিষ্ঠানটির ৪৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪১ জন পাস করেছে, ফলে পাসের হার ৮৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে ১ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। মাদরাসাগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মাদরাসা-ই-তৈয়্যবিয়া অদুদিয়া সুন্নিয়া ফাজিল মাদরাসা। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৭৫ দশমিক ৩১ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ জন। এছাড়া পোমরা জামেউল উলুম ফাজিল মাদরাসার পাসের হার ৭০ দশমিক ৯১ শতাংশ, রাঙ্গুনিয়া আলম শাহ পাড়া কামিল মাদরাসার ৬৮ দশমিক ১২ শতাংশ এবং উত্তর পদুয়া মদিনাতুল উলুম দাখিল মাদরাসার পাসের হার ৬১ দশমিক ৯০ শতাংশ।
ভোকেশনালে ৪টি উচ্চ বিদ্যালয়ের মধ্যে শতকরা পাশের হারের দিক দিয়ে শীর্ষে রয়েছে সরফভাটা ইউনিয় উচ্চ বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয় থেকে ৫৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৫০ জন পাশ করেছে। শতকরা পাশের হার ৯০.৯১, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ জন। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়। এ প্রতিষ্ঠান থেকে ৯৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাশের হার ৮১.২৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১জন।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাশের হার ও জিপিএ-৫ গত বছরের তুলনায় কমেছে।
ফলাফল নিয়ে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান বলেন, পাসের হার দিয়ে শিক্ষার প্রকৃত মান যাচাই করা সম্ভব নয়। এক সময় পাসের হার খুব কম ছিল, বিগত কয়েক বছর ধরে ব্যাপক শিক্ষার্থী পাস করেছে। তবে এবার অতিরিক্ত নম্বর দেওয়ার প্রবণতা ছিল না বলেই আমরা জেনেছি। ফলে এবার যেটি হয়েছে, তা প্রকৃত মান যাচাইয়ের ফল। যারা ভালো ফল করতে পারেনি, তাদের হতাশ না হয়ে আগামীতে ভালো করার জন্য মনোযোগী হওয়ার তাগিদ দেন তিনি। সন্তানদের পড়ার টেবিলে বসতে আরও উৎসাহিত করুন। অসৎ সঙ্গ পরিহার, পড়াশোনার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কাজ থেকে বিরত রাখা এবং স্মার্টফোন ব্যবহারে সতর্ক থাকার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহবান জানান। আর্থিকভাবে অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে উপজেলা প্রশাসন সাধ্যমতো পাশে থাকবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
কৃতি শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন চট্টগ্রাম-৭ রাঙ্গুনিয়া সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী। তিনি কৃতি শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষায় আরো অধিকতর সফলতা কামনা করেন এবং তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু করার আশ্বাস দেন।
ফল প্রকাশের পর ভালো ফলাফল করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে। একই সঙ্গে তুলনামূলক কম পাসের হার পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোতে ফলাফল পর্যালোচনা করে শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
