back to top

[the_ad id="407"]

ডায়াবেটিক হাসপাতালে তিন  আন্দোলনকারীকে  গ্রেফতারের ইস্যুতে   সড়ক অবরোধ করেছে কর্মকর্তা-কর্মচারিরা

ডায়াবেটিক হাসপাতালে তিন  আন্দোলনকারীকে  গ্রেফতারের ইস্যুতে   সড়ক অবরোধ করেছে কর্মকর্তা-কর্মচারির

Oplus_131072

 

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
ডায়াবেটিক হাসপাতালে তিন  আন্দোলনকারীকে  গ্রেফতারের প্রতিবাদে  সড়ক অবরোধ করেছে হাসপাতালের চিকিৎসক-কর্মকর্তা-কর্মচারিরা

চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতালের মেয়াদোত্তীর্ণ বহিস্কৃত সভাপতি জাহাঙ্গীর চৌধুরীর পদত্যাগের দাবীতে গতকাল ( ৭ অক্টোবর) দুপুরে হাসপাতালের চিকিৎসক-কর্মকর্তা-কর্মচারিদের সভা চলাকালে ৬/৭ জন সেনাসদস্য অতর্কিতে সভাস্থলে ঢুকে সুজন দাস, শান্ত ও ওয়াকিল আহমদ (বগা) কে আটক করে নিয়ে যায়। এসময় সভায় উপস্থিত লোকজনের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রতিবাদে উত্তেজিত কর্মকর্তা-কর্মচারিরা হাসপাতালের সামনের জাকির হোসেন রোডে অবরোধ তৈরি করলে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিক্ষুব্ধ অবরোধকারীদের ঘোষণা- আটককৃতদের না ছাড়া পর্যন্ত অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে না। প্রায় দুঘণ্টা পর আটকৃতদের ছেড়ে দেয়া হলে অবরোধ তুলে নেয়া হয়।

হাসপাতালে এনেক্স ভবনের হলরুমে ডা. মাসুদ করিম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন ডা. রতন কান্তি সাহা, ডা. মোহাম্মদ সলিম উল্লাহ, ডা. মো. নাসির উদ্দিন, ডা. রিন্টু কান্তি ভট্টাচার্য, ডা. এম এ মুকিত, ডা. আহসানুল করিম চৌধুরী, ডা. এ এস এম হাসান, ডা. কল্লোল বড়ুয়া, ডা. রাশেদা বেগম, ডা. শাহ মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন ও ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী। ইনডোর বিভাগের চিকিৎসকেরাও এ যৌক্তিক আন্দোলনের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেন।

জাহাঙ্গীর চৌধুরীর পদত্যাগের দাবিতে চিকিৎসক  – কর্মকর্তা -কর্মচারিদের সভা

সভায় বক্তারা বলেন, যেহেতু ২০১৫সাল থেকে বর্তমান হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির কোনো বৈধতা নেই সেহেতু এ কমিটির সকল কার্যকলাপ অবৈধ ঘোষণা করে কমিটি বাতিল করে এডহক কমিটি নিয়োগ দিয়ে সকলের অংশগ্রহণে পরিচ্ছন্ন একটি নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। নির্বাচনের আগে সৎ ও যোগ্য লোক দিয়ে আজীবন সদস্যদের তালিকা যাচাই করে হালনাগাদ করতে হবে।  অডিট কমিটি নিয়োগ করে হাসপাতালের যাবতীয় হিসাব অডিট করতে হবে। যারা অন্যায় কাজের সাথে জড়িত তাদের সকলকে আইনের আওতায় আনতে হবে।

উল্লেখ্য, গত ৫ অক্টোবর ২০২৪ জাহাঙ্গীর চৌধুরী সমাজসেবা অধিদপ্তরের আদেশ অমান্য করে অবৈধভাবে পকেট কমিটি গঠন করে সেটির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করলেও কর্মকর্তা-কর্মচারিদের প্রতিরোধের মুখে তা হয়নি। “দুর্নীতিবাজ, অত্যাচারী ফ্যাসিস্ট জাহাঙ্গীর চৌধুরীর ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতাল থেকে পদত্যাগ চাই” লেখা ব্যানার নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারিরা জাহাঙ্গীর চৌধুরীর ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে ১৪ দফা দাবী আদায়ে সোচ্চার হয়ে ওঠেন। আন্দোলনরত কর্মকর্তা-কর্মচারিরা তার প্রতিকৃতিতে থুথু নিক্ষেপ ও জুতোপেটা করেছেন। এসময় আশপাশের কৌতূহলী লোকজন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও তাতে শরিক হয়। জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে “জুতো মারো গালে গালে’ সহ নানান অশ্লীল স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে হাসপাতাল প্রাঙ্গণ এলাকা। উত্তেজিত কর্মকর্তাচারিদের চাপের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন তার দুর্নীতির সহযোগী হাসপাতাল পরিচালক নওশাদ আজগর চৌধুরী, প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা আমান উল্লাহ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল ও নিরীক্ষা কর্মকর্তা ইয়াছিন চৌধুরী; শারীরিকভাবেও লাঞ্ছিত হন তারা। সেনাবাহিনী ও পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে সেনা ও পুলিশ পাহারায় অবরুদ্ধ কর্মকর্তারা হাসপাতাল ত্যাগ করেন। আত্মরক্ষার্থে তার অন্য অনুসারীরাও পালিয়ে যান। এ পরিস্থিতিতে জাহাঙ্গীর চৌধুরী হাসপাতালে ঢোকার পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। সংক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারিদের ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে ‘জাহাঙ্গীরমুক্ত’ হয় চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক হাসপাতাল। অবাঞ্চিত জাহাঙ্গীর ও তার বাহিনী যাতে হাসপাতালে অনুপ্রবেশ করতে না পারে- সে জন্যে কর্মচারিরা পালাক্রমে পাহারা দিচ্ছেন। প্রশাসক নিয়োগ না দেয়া পর্যন্ত এ পাহারা অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানায়।

ডায়াবেটিক হাসপাতালের তিন কর্মচারিকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে ও   জাহাঙ্গীর চৌধুরীর পদত্যাগের দাবিতে হাসপাতালসংলগ্ন  জাকির হোসেন সড়কে কর্মচারিদের  অবরোধ

সর্বশেষ

আরও খবর >

- Advertisement -Newspaper WordPress Theme