back to top

[the_ad id="407"]

আদালতে খারিজ জাবেদ আবছারের সাংবাদিককে জড়ানো সেই ভুয়া মামলা

রানা সাত্তার, চট্টগ্রামঃ

চট্টগ্রামে সাংবাদিক জালালউদ্দিন সাগরের বিরুদ্ধে প্রতারক জাবেদ আবছার চৌধুরীর দায়ের করা দুটি হয়রানিমূলক মামলা খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। ভর্তি বাণিজ্য নিয়ে প্রকাশিত সংবাদকে কেন্দ্র করে দায়ের করা এসব মামলা আইনের আদালতে টিকেনি।

খারিজ হওয়া মামলাগুলো হলো— সিআর মামলা নম্বর ৩১০২/২০২৩ (কোতোয়ালী মেট্রোপলিটন আদালত) এবং সাইবার ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা মামলা নম্বর ১০/২০২৪।

আদালতের রায়

সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আবু বক্কর সিদ্দিকী মানহানি মামলা (৩১০২/২০২৩) খারিজের আদেশ দেন। এর আগে সাইবার ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা মামলা (১০/২০২৪) খারিজ করেছিলেন বিচারক জিনাত সুলতানা।

তদন্তে বেরিয়ে আসে ভুয়া অভিযোগ

তদন্তে উঠে আসে, চট্টগ্রাম মা ও শিশু মেডিকেল কলেজে গরিব কোটায় ভর্তি করিয়ে দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন ইঞ্জিনিয়ার জাবেদ আবছার। ভুক্তভোগীদের জবানবন্দি, ব্যাংক লেনদেনের প্রমাণসহ নানা তথ্য বিশ্লেষণে ভর্তি বাণিজ্যের সত্যতা পাওয়া যায়।

পিবিআই মেট্রোর পরিদর্শক মর্জিনা আকতার দেড় বছর তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন—
“বাদীর অভিযোগে কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। বরং ভর্তি বাণিজ্যে টাকার বিনিময়ে প্রতারণার বিষয়টি সাক্ষ্য-প্রমাণে প্রমাণিত।”

সাক্ষী হাজিরে ব্যর্থ বাদী

তদন্তকালে বাদী জাবেদ আবছারকে বারবার নোটিশ দিলেও তিনি কোনো স্বীকৃত সাক্ষী হাজির করতে পারেননি। ভুক্তভোগী ও নিরপেক্ষ সাক্ষীদের বক্তব্যে নিশ্চিত হয় যে, বাদী নিজেকে হাসপাতালের ভাইস-প্রেসিডেন্ট পরিচয় দিয়ে ভর্তি করিয়ে দেওয়ার নামে টাকা নিয়েছিলেন। কিন্তু ভর্তি বা মাইগ্রেশন করতে ব্যর্থ হয়ে কেবল আংশিক অর্থ ফেরত দেন।

সাইবার মামলার চিত্র

একইভাবে সাইবার ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা মামলার তদন্তেও জাবেদ আবছার ব্যর্থ হন অভিযোগ প্রমাণে। তদন্ত কর্মকর্তা জানান, বাদী নানা প্রলোভন দেখিয়ে ‘মিথ্যা প্রতিবেদন’ করানোর চেষ্টা করলেও সফল হননি। বরং ভুক্তভোগীদের স্বাক্ষ্য সংবাদটির সত্যতা প্রমাণ করে।

প্রতারণা ঢাকতে সাংবাদিককে টার্গেট

আদালত সূত্র জানায়, সাংবাদিক জালালউদ্দিন সাগরসহ একাধিক গণমাধ্যমে জাবেদ আবছারের ভর্তি বাণিজ্যের খবর প্রকাশিত হওয়ার পরই তাকে চাপে ফেলতে বাদী হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করেছিলেন। তবে দীর্ঘ তদন্ত শেষে সত্য প্রকাশ পায় এবং আদালত অভিযোগকে ‘অসত্য, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট’ হিসেবে খারিজ করেন।

আইনজীবীর প্রতিক্রিয়া

সাংবাদিক জালালউদ্দিন সাগরের আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ বলেন,
“আইনের মাধ্যমে আবারও প্রমাণ হলো— সত্যকে কখনো মিথ্যার ফাঁদে আটকানো যায় না। সাংবাদিকদের কলম ন্যায় ও সত্যের পক্ষে।”

✦ সারকথা: সাংবাদিককে হয়রানি করতে দায়ের করা জাবেদ আবছারের সব ভুয়া মামলা আদালতে খারিজ হয়েছে। তদন্ত প্রমাণ করেছে— ভর্তি বাণিজ্যের মাধ্যমে তিনি নিজেই জড়িয়ে ছিলেন প্রতারণায়।

সর্বশেষ

আরও খবর >

- Advertisement -Newspaper WordPress Theme