শহিদুল আলম কোনো সাধারণ ফটোগ্রাফার নন।তিনি ছবি তুলেন বাকরুদ্ধ ও বেস্বরাদের পক্ষে।ক্যামেরা তার হাতেই শব্দ হয়ে ওঠে; কথা হয়ে ওঠে প্রতিবাদের মঞ্চ।
পাঠশালা ও চবি মেলা-দুইটি নামই তার দেওয়া স্বীকৃতি।দক্ষিণ এশিয়ার মিডিয়া ও ফটোগ্রাফির দৃশ্যপটকে তিনি গড়েছেন নতুন দিগান্ত।
সময় যখন ২০১৮ঃ ২০১৮ ছিল একটা মোড়।সড়ক নিরাপত্তার আলোচনায় তরুণরা রাস্তায় নেমেছিল।শহিদুল আলম সেই আন্দোলনকে কেবল এক ঘটনা মনে করেননি।তিনি দেখেছেন ভেঙে পড়া আস্থা, গণতান্ত্রিক অধিকার হুমকির মুখে।
তার কথা ছিল ভাবুক।একটি লাইভ ভিডিওকে কারণ দেখিয়ে তাকে সহিংস ছড়ানো নিয়ে বিগত সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে তুলে নেয়া হয়।আইনশৃঙ্খলা বলায়, আইনের নামে নিয়ন্ত্রণ করতে চায় তাকে। চলে তার উপর নির্যাতন।৭ দিনের রিমান্ড দেয়া হয়। এরপর হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ। দীর্ঘ নির্যাতন, হাসপাতালের ভুক্তভোগী ছবি।তারপরও তিনি হার মানেননি।শুরু হয় আন্তর্জাতিক প্রতিবাদ-আন্দোলন ‘Free Shahidul Alam’ যেন এক মহাস্রোত।তখন আইন-আদালত ছিল কঠোর। ধারা ৫৭, ডিজিটাল নিরাপত্তা-সবকিছুতে লড়াই জুড়ে চলে। কিন্তু ২০২৫ সালের আগস্টে উচ্চ আদালত ওই মামলাটি বাতিল করেছে—একটুকু বিচারের আলো।এই বিজয় ব্যক্তি নয়, এটা বাকস্বাধীনতার জন্য এক নিঃশ্বাস।
বর্তমানে তিনিঃ এখন তিনি গাজার পথে।ফ্লোটিলায় তার উপস্থিতি কেবল সাংবাদিকতার সাহস নয়।এটি আন্তর্জাতিক মানবতার ডাক।তাঁর কথা-“পুরো দেশ আমার সঙ্গে আছে”-এখানে ঝঙ্কৃত হয় কেবল চেতনা নয়; তা হলো দায়িত্ববোধ।
শহিদুল আলমের জীবন আমাদের শেখায় কয়েকটি সত্য:মতপ্রকাশ দমন করলে গোপন অর্থে সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আইনকে দমনযন্ত্র করলে ন্যায়-আদলে আঘাত লাগে। তথ্য ও ছবি একযোগে জাগ্রত করে মানবিক বিবেককে।
অবশ্য হুমকিও আছে।যারা কথা বলে, তারা সহজে নিরাপদে থাকে না।মামলা, হয়রানি, নির্যাতন—এই সবের মুখোমুখি হতে হয়।তাই শুধু ব্যক্তির সাহস যথেষ্ট নয়। প্রতিষ্ঠানগত সুরক্ষা দরকার।স্বাধীন সাংবাদিকতা ও স্বাধীন আদালত দরকার।
আন্তর্জাতিক সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ।কিন্তু শেষ কথা বলে সমাজ নিজেই।জনমত, সচেতনতা, সাধারণ মানুষের অটল সহানুভূতি-এসব মিলেই পরিবর্তন দাঁড়াবে। শহিদুল আলম একজন প্রতীক। তার সংগ্রাম আমাদের সকলের সংগ্রাম।
আজ যখন তিনি ফ্লোটিলার জাহাজে দাঁড়িয়ে আছেন, তা কেবল গাজার জন্য নয়।এটি আমাদের দেশের তরুণদের জন্য একটি বার্তা।বুক পেতে গুলি নেয়া শহীদ আবু সাইদ এর জার্সি পরে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিচ্ছেন বীর বাঙালি শহীদুল আলম।ভয়-দমনকে টিকে থাকা মানে ভবিষ্যতকে অন্ধ করা।সত্য বলতে হবে। ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াতে হবে। শহিদুল আলমের চোখ এখনও সংগ্রামী।তাঁর ক্যামেরা এখনও অবিচল।আর আমাদের কাজ-শব্দকে পাঠ্য করলে, ছবিকে বিচার করলে—তার কণ্ঠস্বরকে শক্ত করে দেওয়া।আসুন সবাই এক একজন শহীদুল আলম হই।
