সাম্প্রতিক সহিংসতা কাটিয়ে আবারও স্বাভাবিক হয়ে উঠছে খাগড়াছড়ি। ফিরে এসেছে পর্যটকদের ভিড়, মুখরিত হয়ে উঠছে আলুটিলা রহস্যময় সুড়ঙ্গ, রিছাং ঝর্ণা ও হর্টিকালচার পার্কের মতো দর্শনীয় স্থানগুলো।
এই স্বাভাবিকতার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর। পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর টহল ও তৎপরতায় মানুষ ফিরে পেয়েছে আস্থা। পর্যটকদের নিরাপত্তায় কাজ করছে টুরিস্ট পুলিশ ও আনসার সদস্যরাও।
খাগড়াছড়িতে বেড়াতে আসা পর্যটক মোঃ আরাফাত ও সাদিয়া রহমান এবং নুসরাত জাহান বলেন, আমরা এখানে ২ রাত ৩ দিনের জন্য ভ্রমণে এসেছি। পর্যটকদের নিরাপত্তা থাকলেও পাহাড়ের পরিস্থিতিতে আমরা শংকিত। তাই আমরা শহরের ভেতরে একটি হোটেলে রাতযাপনের জন্য রুম বুকিং দিয়েছি।
খাগড়াছড়ি পর্যটন সমন্বয় সমিতির সদস্যসচিব উজ্জ্বল দে বলেন, পর্যটকেরা সাজেক আসা-যাওয়ার পথে খাগড়াছড়ির আকর্ষণীয় পর্যটন সম্পর্কগুলো ঘুরে দেখেন ও খাগড়াছড়িতে রাত্রিযাপন করেন।
খাগড়াছড়ি সদরে আবাসিক হোটেল গাইরিং ব্যবস্থাপক প্রান্ত বিকাশ ত্রিপুরা বলেন, অশান্ত পরিস্থিতির কারণে সম্প্রতি আমার হোটেলসহ
জেলা সদরের সব হোটেলের বুকিং বাতিল হয়ে যায়। এখন আবার বুকিং হয়েছে।
খাগড়াছড়ি জীপ মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ মফিজুর রহমান বলেন, খাগড়াছড়ি থেকে প্রতিদিন সাজেকে তাদের ২শ-২শ টি গাড়ি পর্যটকদের নিয়ে যাতায়াত করে। গাড়ি প্রতি ভাড়া প্রায় ১০ হাজার টাকা। এ হিসেবে সাজেকগামী গাড়িগুলো দৈনিক ২০-২৫ লাখ টাকা ভাড়া পায়। প্রায় তিন হাজার পরিবহন শ্রমিক রয়েছে গাড়িগুলোতে। সহিংসতার ঘটনায় গড়ি চলাচল বন্ধ থাকায় পরিবহন ব্যবসায়ীরা প্রচুর ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে।রর্তমানে আবারও পরিবেশ স্বাবাভিক হয়েছে।
সাজেক কটেজ অ্যান্ড রিসোর্ট ওনার্স এসোসিয়েশনের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলমগীর বলেন, শুক্রবার ৩০-৩৫টি পর্যটকবাহি গাড়ি সাজেকে এসেছে।
খাগড়াছড়ি শহরের হোটেল অরণ্য বিলাসের ব্যবস্থাপক আব্দুর রশীদ সাগর বলেন, অশান্ত পরিস্থিতির কারণে জেলা শহরের সব হোটেলের বুকিং বাতিল হয়ে যায়। এখন আবার বুকিং হয়েছে। আমরা আশাবাদী, আসন্ন শীত মৌসুমে পর্যটন খাত আবারও চাঙ্গা হবে এবং ক্ষতি কাটিয়ে উঠবে।
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও পর্যটন করপোরেশনের আহ্বায়ক মোঃ সহিদুল ইসলাম সুমন বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর টহল ও তৎপরতায় মানুষ ফিরে পেয়েছে আস্থা। পর্যটকদের নিরাপত্তায় কাজ করছে টুরিস্ট পুলিশ ও আনসার সদস্যরাও।
খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক এ বি এম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার বলেন, এরমধ্যে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। সহিংস পরিস্থিতির কারণে পর্যটন শিল্পের অনেক ক্ষতি হয়েছে।
