সংবিধান সংস্কার কমিশনের কাছে লিখিত প্রস্তাব জমা দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিএনপির প্রতিনিধিদল জাতীয় সংসদ ভবনে সংস্কার কমিশনের কার্যালয়ে যায়। এসময় কমিশনের প্রধান অধ্যাপক আলী রীয়াজের হাতে লিখিত প্রস্তাব তুলে দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।
বিএনপি দলীয় সূত্র জানিয়েছে, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রবর্তন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনাসহ সংবিধানে একগুচ্ছ সংস্কারের প্রস্তাব এরইমধ্যে চূড়ান্ত করেছে বিএনপি। দলটির ঘোষিত ৩১ দফার ভিত্তিতে এসব প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে। সোমবার এসব প্রস্তাব সংবিধান সংস্কার কমিশনে দেওয়ার কথা থাকলেও তা এক দিন পিছিয়ে আজ দেওয়া হয়।
পরে সালাহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘‘বিএনপির পক্ষ থেকে সূচনা থেকে শুরু করে তফসিল পর্যন্ত মোট ৬২টি প্রস্তাবনা জমা দিয়েছি। জুলাই-আগস্ট বিপ্লব ও বর্তমান বাস্তবতা এবং পরবর্তীকালে যেন একনায়কতন্ত্র তৈরি না হয়, সেগুলো মাথায় রেখে প্রস্তাবনা দিয়েছি।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘সংস্কার প্রস্তাবে ব্যালান্স অব পাওয়ারের কথা বলা হয়েছে। সংস্কার কমিটি সুপারিশ চূড়ান্ত করে সরকারকে দেবে। তারপর নির্বাচিত সরকার এসে এসব সংশোধন করবে।’’
অন্তর্বর্তী সরকার এখন পর্যন্ত রাষ্ট্র সংস্কারে মোট দশটি কমিশন গঠন করলেও এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে সংবিধান ও নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কারের বিষয়গুলো।
প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য আনার প্রস্তাব দেওয়ার কথা জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘‘পরপর দুইবারের বেশি কেউ যেন প্রধানমন্ত্রীর পদে আসীন না হয়, সে বিধান রেখেছি। সংসদে উচ্চকক্ষ সৃষ্টির বিধানের প্রস্তাব করেছি।’’
বিচার বিভাগের বিষয়ে বিএনপি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে, উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘‘অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ যাতে সুপ্রিম কোর্টের অধীনে থাকে। উপ-রাষ্ট্রপতি ও উপ-প্রধানমন্ত্রী পদ সৃজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এটা আগে ছিল, আমরা তা পুনঃপ্রবর্তনের বিধানের প্রস্তাব করেছি। যেসব বিষয়ে মানুষের আকাঙ্ক্ষা বেশি— তত্ত্বাবধায়ক সরকার মানুষের এক নম্বর আকাঙ্ক্ষা—সেটি আদালতেবিচারাধীন আছে। আশা করি, মানুষের পক্ষে রায় আসবে। গণভোটের বিধান পুনঃপ্রবর্তনের প্রস্তাব করেছি।’’
উল্লেখ্য, অধ্যাপক আলী রীয়াজের নেতৃত্বাধীন সংবিধান সংস্কার কমিশন লিখিতভাবে সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাব পাঠাতে রাজনৈতিক দলগুলোকে অনুরোধ করেছে। এই কমিশন ইতোমধ্যে বিশিষ্ট নাগরিকসহ অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময় শুরু করেছে।
