গত ২৪ /৬ /২০২৬ ইংরেজি তারিখ গুলশাখালি ইউনিয়নের রাজনগর এলাকার হাবিবুর রহমান মানিক কর্তৃক মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ সম্মেলনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সাবেক স্ত্রী দিল আফরোজা।
প্রতিবাদ লিপিতে তিনি জানান, আমি দিল আফরোজা আক্তার, গত ২৪ /৬ /২০২৬ ইংরেজি তারিখ গুলশাখালি ইউনিয়নের রাজনগর এলাকার হাবিবুর রহমান মানিক কর্তৃক মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করায় তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, হাবিবুর রহমান মানিক আমার সাবেক স্বামী ছিলেন। ২০২১সালে আদালতের মাধ্যমে আমি হাবিবকে ডিভোর্স প্রদান করি। উল্লেখ্য যে ২০০১ সালে তার সাথে আমি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হই। সে ছিল একজন বেকার ও কর্মহীন যুবক। আর্থিক অভাব অনটন সহ ২০ বছরের সংসার জীবনে তার সাথে আমার কখনো বনিবনা ছিল না। সে ছিল অত্যন্ত হিংস্র প্রকৃতির লোক যদিও সেই আচরণ বাহিরে প্রকাশ পেতো না। আমার পরিবারের ও নিজ আত্মমর্যাদা রক্ষার্থে কখনো বাহিরে তার হিংস্র আচরণের কথা প্রকাশ করিনি। তার দেওয়া শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার ও নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আমি তাকে ২০২১ সালে ডিভোর্স দিতে বাধ্য হই।
তার অত্যাচারের জলন্ত সাক্ষী তারই ওরস জাত সন্তান। ২০১৬ সালে বিদেশ যাওয়ার জন্য আমার বাপের বাড়ি থেকে টাকা এনে দিতে সে আমাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে। তার শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে আমিও ভাগ্যের চাকা পরিবর্তন করতে বিদেশ যাওয়ার জন্য আমার বাবার বাড়ি থেকে ১১ লক্ষ টাকা এনে তাকে দেই। সেই টাকা দিয়ে ২০১৬ সালে মানিক সৌদি আরব পাড়ি জমায়। ২০২২ সালে সে সৌদি আরব থেকে একেবারে ফেরত আসে। সৌদি আরবে অবস্থানকালে মানিক একাধিক নারীর সাথে পরকীয়ায় লিপ্ত হয়ে একপর্যায়ে একাধিক বিয়ে করে। বাড়িতে ছেলে মেয়ের জন্য টাকা পয়সা না দিয়ে নারীর নেশায় ব্যস্ত ছিল। ২০২১ সালে আমার ছেলে প্রবাসে চলে যায়।। আমার ছেলের টাকা এবং বাপের বাড়ি থেকে সহযোগিতা নিয়ে আমি বাড়িতে ঘর নির্মাণ করি। হাবিব তার নিজের ছেলে মেয়ের বরণ পোষণ দেওয়ার ভয়ে দুই বছর আগে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। পরিবারের কারো সাথে কোন যোগাযোগ রাখেনি। হঠাৎ করে গত ১৪/ ৫ /২০২৬ ইংরেজি তারিখ ৪০ থেকে ৫০ জন সন্ত্রাসী নিয়ে আমার বাড়িতে আক্রমণ করে। আমাকে মারধোর করে পরিবারের সবাইকে হেনস্তা করে আমার ঘরে ঢুকে টাকা পয়সা স্বর্ণালংকার লুটপাট করে নিয়ে যায়। এতেই শুধু ক্ষান্ত হয়নি ৩০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। একপর্যায়ে চলে যাওয়ার সময় ৩০ লক্ষ টাকা চাঁদা পৌছে না দিলে বাড়ি থেকে বের করার হুমকি দিয়ে যায়। নিরুপায় হয়ে আমি আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হই। বর্তমানে মামলা তদন্তাধীন।
তার ওই ধারাবাহিকতায় চাঁদা দিতে না পারায় গত ২২-৬-২৬ ইংরেজি তারিখ হাফিজুর রহমান মানিক ও পূর্বের সন্ত্রাসীরা ৬০ থেকে ৭০ জন লোক আমার বাড়িতে আক্রমণ করে। তাদের আক্রমণের মুখে আমাকে জিম্মি করে একপর্যায়ে রাতের বেলায় তারা আমাকে আমার চৌদ্দ বছরের কন্যা সন্তান, নববধূ, ৯ মাসের নাতনি সহ সবাইকে ঘর থেকে মারধর করে বের করে দেয়। আমার বাড়ির গরু ছাগল সবকিছু লুটপাট করে নিয়ে যায়। আমার বাড়ি জবরদখল করে রাখে।
প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও দেশবাসী আপনাদের কাছে আমার প্রশ্ন? আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ করেছে আমি টাকা পয়সা আত্মসাৎ করেছি। আপনারাই বলুন প্রবাসে প্রাণ কোম্পানির সেলসম্যান হিসেবে চাকরি করে ছয় বছরে কত টাকা কামানো সম্ভব? তাছাড়া আমার নামে টাকা দিয়ে থাকলে আপনারা তার প্রমাণ খুঁজুন। আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ করা হলো আমি পর পুরুষ বাড়িতে নিয়ে আসছি। যাচাই না করে এমন কথা বলা বা প্রচার করা দুঃখজন।
আমার বাড়িতে আসা ভদ্র লোক তিনি আমার বর্তমান স্বামী। তাইলে আপনারা ডকুমেন্ট নিতে পারেন আমি আমার সন্তানদের অনুমতি ক্রমেই বিয়ে করেছি। আমি অনুরোধ করব আপনারা মিথ্যা প্রচার করে কারো আত্মসম্মান নষ্ট করবেন না, জনগণকে বিভ্রান্তি করবেন না।
উল্লেখ্য যে, আমার ঘরের জায়গাটা আমারই নামের জায়গা আমার নিকট ডকুমেন্ট রয়েছে প্রয়োজনে আপনারা দেখতে পারেন আমি আমার জায়গায় আমার ছেলের টাকায় ঘর করেছি। আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ। আল্লাহ হাফেজ।
