back to top

[the_ad id="407"]

আনোয়ারায় পাহাড় কেটে খাস জায়গায় ঘর নির্মাণ : এসি ল্যান্ডের অনুমতি প্রাপ্তির দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার হাজীগাঁও গ্রামে সরকারি খাস জায়গায় পাহাড় কেটে ঘর নির্মাণের ঘটনায় প্রশাসনের শিথিল ভূমিকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পাহাড় কাটার মতো গুরুতর অপরাধে মাত্র ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে দায়সারা ব্যবস্থা নিয়েছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দীপক ত্রিপুরা।

গত ৪ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) এ ঘটনায় স্থানীয়রা জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার ও পরিবেশ অধিদপ্তর বরাবরও পুনরায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এলাকাবাসীরা।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মৃত মোহাম্মদ সরওয়ারের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম ও মফিজুর রহমানের মেয়ে সরকারি খাস জায়গায় মাটি কেটে ঘর নির্মাণ করতে থাকেন। স্থানীয়রা বাধা দিলেও তারা রাতে আধারে পাকা ঘর নির্মাণ অব্যাহত রাখেন।

এ বিষয়ে একজন ভুক্তভোগী হয়ে সায়রা খাতুন গত ২১ আগস্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছেও লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রথমে অভিযুক্তদের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা,কাজ বন্ধ রাখার ও দুই বছরের কারাদণ্ডের হুঁশিয়ারি দেন। কিন্তু পরে জাহাঙ্গীর আলমকে ভূমি অফিসে নিয়ে গিয়ে মাত্র ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে ছেড়ে দেন।জাহাঙ্গীর এসি ল্যান্ড অফিস থেকে ফিরে এস ওই দিনেই রাত থেকে আবারো মিস্ত্রি দিয়ে কাজ শুরু করেন।

স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের এই নমনীয়তা মূলত আর্থিক প্রভাবের ফল। ইতোমধ্যে অভিযুক্তরা আবারও রাতে ঘর নির্মাণ শুরু করেছেন।গভীর রাতে মানুষ যখন ঘুমায় ঠিক তখন মিস্ত্রি কাজ শুরু করেন।সচেতন মহলের আশঙ্কা, পাহাড় কাটার মতো অপরাধ চলতে থাকলে হাজীগাঁওসহ আশপাশের এলাকায় ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় নেমে আসবে।

পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ২০১০ অনুযায়ী, প্রাকৃতিক পাহাড় বা টিলা কর্তন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এ অপরাধে ২ থেকে ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড ও ২ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। কিন্তু আইনকে উপেক্ষা করে পাহাড় কেটে ঘর নির্মাণের ঘটনায় প্রশাসনের শৈথিল্য নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলম পাহাড় কাটার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “আমার থাকার মতো ঘর নেই, তাই পরিবার নিয়ে থাকার জন্য ঘর নির্মাণ করছি। এসিল্যান্ড স্যার আমাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে ছেড়ে দিয়েছেন এবং ঘর নির্মাণে অনুমতি দিয়েছেন।”অনুমতির কাগজ চাইলে তিনি দেখাতে পারেনি। এক পর্যায়ে,তাকে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব আছে কিনা প্রশ্নে তিনি জানান আমার কোনো জাতীয় পরিচয় পত্র নেই,আমি কক্সবাজার থেকে এসেছি।এখানে বিয়ে করেছি।

জানা যায়,সে মাদকাসক্ত ও মাদক বিক্রেতা।মাদক কারবারি হিসাবে জাহাঙ্গীর বহুবার আনোয়ারা থানায় গ্রেফতার হয়।রাত হলে তার এই খাস জমিতে ঘরে মাদকের আসর বসে।খারাপ ছেলে-মেয়েদের অবাধে মিলেমিশা ও চোলাই মদের আসর বসে।

তবে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দীপক ত্রিপুরা বলেন,সরকারি জায়গাতে ঘর করতে কেও অনুমতি দিতে পারে না।আমি এইরকম কোনো অনুমতি দেইনি।বরং মানবতার দিক বিবেচনা করে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে এই জায়গা থেকে চলে যেতে বলা হয়েছে তাদের।তারা ভুমিহীন দাবি করায় তাদের বলেছি উপজেলায় আবেদন করতে পারেন।সেখানে আর কোনো কাজ যেন তারা না করেন তা পরিষ্কার ভাবে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।যদি তারা নিষেধ ও আইন অমান্য করে এখনো কাজ করলে তা আইনানুগ ব্যাবস্থা নেয়া হবে।পরিবেশে আবেদন করেছেন তারাও ব্যাবস্থা নিবেন।

এদিকে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ মোজাহিদুর রহমান এর অফিসিয়াল নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে কেও ফোন তুলেন নি।তবে,তার দপ্তরের অভিযোগের রিসিভিং কপি সংযুক্তিতে পাওয়া যায়।

স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

সর্বশেষ

আরও খবর >

- Advertisement -Newspaper WordPress Theme