back to top

[the_ad id="407"]

চট্টগ্রামে সনদ বিহীন চোখের চিকিৎসা করে যাচ্ছেন ভুয়া চিকিৎসক মোস্তফা ফারুকী

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী ওয়্যারলেস এলাকায় অবৈধভাবে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মো. মোস্তফা ফারুকী ভূঁইয়া নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ‘নাহার অপটিক্যাল হাউজ’ নামে চশমার দোকানের ভেতর প্রতিদিনই তিনি ২০ থেকে ৩০ রোগী দেখছেন এবং প্রেসক্রিপশন দিচ্ছেন। অথচ তিনি চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নন—অথবা দৃষ্টি (রিফ্রেকশন) নিয়ে সেবা দেয়া অপ্টোমেট্রিস্টও নন! এ তথ্য নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ—চেম্বার, চেয়ার, প্রেসক্রিপশন—সব কিছুই চিকিৎসকের মতো সাজানো থাকায় তাঁকে অনেকেই ডাক্তার ভেবে চিকিৎসা নেন।

৬০ বছর বয়সী সালেহা খানম বলেন,“চেম্বার আছে, প্রেসক্রিপশন দেন—তাই ধরে নিই, তিনি ডাক্তার।”
ফারুকীর লেখা প্রেসক্রিপশনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের ব্যবহৃত, এন্টিবায়োটিক, স্ট্রয়েড ড্রপসহ বিভিন্ন ভিটামিন মিনারেল ক্যাপসুল এমন ওষুধ দেওয়া হয়েছে যেগুলো লিখতে বিশেষজ্ঞ নিবন্ধন থাকা বাধ্যতামূলক।

দীর্ঘদিন অনুসন্ধান করে বেরিয়ে এসেছে,—তিনি রোগীর চোখ পরীক্ষা করছেন, সমস্যার বিবরণ নিচ্ছেন এবং প্রেসক্রিপশন লিখছেন। পোস্ট গ্র‍্যাজুয়েশান বিহীন চক্ষু সার্জন ছাড়া নিজেই বিভিন্ন জায়গায় এমবিবিএস ডাক্তার পাশে রেখে চোখ অপারেশন করছেন,তাঁর প্রেসক্রিপশনে ‘O.P.T.C EYE (BNSB), পাহাড়তলী’ পরিচয় ব্যবহার করা হলেও চক্ষু বিশেষজ্ঞদের মতে—এ নামে কোনো স্বীকৃত ডিগ্রি দেশে নেই।

প্রশ্ন করা হলে প্রথমে এলাকা পরিবর্তনের অজুহাত দেন, পরে জানান একটি ডিপ্লোমা কোর্স করেছেন।যে নামের কোর্স বাংলাদেশের কোনো মেডিকেল বা বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই।তিনি নন এমবিবিএস, নেই বিএমডিসি নাম্বার! অথবা নেই অপ্টোমেট্রিস্ট এর উপর ডিওএলভি, এমপিএইচও!এমনকি রিফ্রেকশনিস্ট বা অপ্টোমেট্রিস্ট হিসাবেও চশমা বা দৃষ্টি রোগ নিয়ে সেবা দিতে পারেন না! প্রশ্ন উঠে আসে তবে তিনি কে? তবে শেষ পর্যন্ত চিকিৎসক নন,অপ্টোমেট্রিস্টও নন!—এটি পরোক্ষভাবে স্বীকার করেন।

এর আগে অপারেশন থিয়েটারের পোশাক পরে একজন এমবিবিএস ডাঃ কে পাশে নিয়ে মাইক্রোস্কোপে দিয়ে চোখ অপারেশন করতে থাকা তাঁর একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে তিনি দাবি করেন, “একটি ফোঁড়া ফুটিয়ে দিয়েছি।” কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে—নিবন্ধন ছাড়া এ ধরনের কার্যক্রম আইনবিরুদ্ধ ও ঝুঁকিপূর্ণ।এদিকে অন্যকারীকে সনাক্ত ও বিস্তারিত অনুসন্ধানে কাজ চলমান রয়েছে অনুসন্ধানী টিমের হাতে।

পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতাল সুত্রে জানায়,
“রোগী দেখার অভিযোগ,বিভিন্ন জায়গায় অনৈতিক প্র‍্যাক্টিস ও অনৈতিক ঝুকিপূর্ণ অপারেশন এর সাথে জড়িয়ে পরায় তাঁকে আগেই চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বহু আগে।
তিনি বলেন, বিএমডিসির নিয়ম অনুযায়ী নিবন্ধন ছাড়া কোনো ব্যক্তি চিকিৎসা দিতে বা প্রেসক্রিপশন লিখতে পারেন না। বিষয়টি সিভিল সার্জনের কার্যালয়েও বহুবার জানানো হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক শেখ ফজলে রাব্বিও বলেন,“নিবন্ধিত চিকিৎসক না হলে বিএমডিসি নাম্বার বা সনদ না থাকলে প্রেসক্রিপশন দেওয়া সম্পূর্ণ অবৈধ। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আইন অনুযায়ী—চিকিৎসকের ভান করা, রোগী দেখা, প্রেসক্রিপশন লেখা এবং নিজেকে চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ।
চক্ষু বিশেষজ্ঞদের মতে—ভুল ওষুধ ব্যবহার করলে দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

সচেতন মহলের প্রশ্ন—স্বাস্থ্যসেবা তদারকিতে ঘাটতি থাকলে এ ধরনের সনদহীন চিকিৎসার ফাঁদে সাধারণ মানুষ আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে।

সর্বশেষ

আরও খবর >

- Advertisement -Newspaper WordPress Theme