back to top

[the_ad id="407"]

এমবিবিএস–বিএমডিসি ছাড়াই ডাক্তার! চট্টগ্রামে ভুয়া চিকিৎসক সিরাজুল ইসলাম এর সিন্ডিকেট

নিজস্ব প্রতিবেদক

চোখ—মানুষের সবচেয়ে সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। অথচ সেই চোখের চিকিৎসাই এখন চট্টগ্রামে পড়েছে ভয়ংকর প্রতারণার কবলে। ভুয়া সনদ, অনুমোদনহীন বিশ্ববিদ্যালয় এবং কনসালটেন্ট ও ফ্যাকো সার্জনের ভুয়া পরিচয়ে বছরের পর বছর ধরে রোগী দেখছেন সিরাজুল ইসলাম ওরফে এম এস ইসলাম নামে এক ব্যক্তি।

চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও-বহদ্দারহাট এলাকায় অবস্থিত ‘বহদ্দারহাট দাতব্য চক্ষু হাসপাতাল’–এ নিজেকে ডা. এম এস ইসলাম (এমডি, পিএইচডি–চক্ষু, ট্রেইন্ড অরবিস ইউএসএ) পরিচয়ে রোগী দেখাচ্ছেন তিনি। সাইনবোর্ড, প্রেসক্রিপশন ও ব্যানারে নিজেকে কখনো চোখের কনসালটেন্ট, কখনো ফ্যাকো সার্জন, আবার কখনো ডক্টর হিসেবে উপস্থাপন করছেন।

 

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ভুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুয়া সনদ।
সিরাজুল ইসলামের প্রদর্শিত এমবিবিএস (অলটারনেটিভ সিস্টেম) সনদটি প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি নামের একটি কথিত প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া—যার কোনো অস্তিত্ব নেই ইউজিসি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা বিএমডিসি’র তালিকায়। অথচ দেশে চিকিৎসা পেশায় একমাত্র স্বীকৃত নিয়ন্ত্রক সংস্থা হলো বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)।
সনদে কোর্সের মেয়াদ, সেশন ও পাশের তারিখে একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে। বানান ভুল, অস্পষ্ট স্বাক্ষর,নিম্ন মানের উভয় পাশে প্রিন্টের ছাপা, এবং অজানা সংস্থার নাম ব্যবহারে সনদের বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।

অন্যদিকে, পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতাল, কনসালটেন্ট ও ফ্যাকো সার্জনের নাম ভাঙিয়েও করছেন প্রতারণা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্যাকো সার্জারি একটি অত্যন্ত জটিল অত্যাধুনিক অপারেশন ও ঝুঁকিপূর্ণ চক্ষু অস্ত্রোপচার, যা কেবল নিবন্ধিত চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত ডিও,ডিসিও,এমএস করা সার্জনের মাধ্যমেই করা আইনসম্মত। অথচ কোনো স্বীকৃত ডিগ্রি, বিএমডিসি নিবন্ধন বা অনুমোদিত প্রশিক্ষণ ছাড়াই সিরাজুল ইসলাম নিজেকে ফ্যাকো সার্জন দাবি করে বিজ্ঞাপন করে যাচ্ছেন—যা সরাসরি জনস্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহ হুমকি এবং প্রকৃত চোখের সার্জনদের জন্য মানহানিকর।

শুধু তাই নয়,তার অপরাধের ফিরিস্তিতে থাকছে আরো ভয়াবহ তথ্য,এইসব অপরাধ কে ঢাকার জন্য ও বেকাপ নিতে ভুয়া ভুইফোড় একাত্তার সংবাদ নামে একটি অনলাইন পত্রিকার প্রকাশক হিসাবেও পরিচয় দেন,তথ্য নিয়ে জানা যায় এই নামে কোনো পত্রিকা বা অফিস কিছুই নেই। লাইফ সেইফার নামে অনিবন্ধিত একটি বেসরকারি সংস্থার কমিটির সদস্যর পরিচয় দেন,আসলে সে সংস্থাতেও রয়েছে পূর্বে র‍্যাব-৭ এর হাতে গ্রেফতার হওয়া ভুয়া চক্ষু চিকিৎসক সঞ্জয় কুমার নাথ।

রোগীরা জানেন না, প্রশাসনের দায় কোথায়?
হাসপাতালে আসা একাধিক রোগী জানান,
“আমরা জানি না কে আসল ডাক্তার, কিনা। সাইনবোর্ডে ডক্টর লেখা দেখে এসেছি। যাচাই করার দায়িত্ব তো প্রশাসনের।”তবে ডাক্তার না হলে এটা তো বড় অপরাধ।

এই বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের কড়া অবস্থান কি সময়ের অপেক্ষা?চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন,
“কোনো ব্যক্তি ভুয়া সনদ বা অবৈধভাবে চিকিৎসা সেবায় যুক্ত থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে কোনো ছাড় নেই।

”দীর্ঘদিনের সনদ বাণিজ্যের তথ্য ও চিত্র অনুযায়ী, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি নাম ব্যবহার করে প্রায় দুই যুগ ধরে একটি চক্র ভুয়া চিকিৎসা ও শিক্ষাসনদ বাণিজ্য করছে। ২০২২ সালে এ সংক্রান্ত অভিযানে একাধিক ব্যক্তি গ্রেপ্তার হলেও চক্রটি আবার সক্রিয় হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

Oplus_0

ভুয়া কনসালটেন্ট ও কথিত ফ্যাকো সার্জনের হাতে চোখের চিকিৎসা মানে রোগীর দৃষ্টিশক্তি নিয়ে ভয়াবহ জুয়া। এখনই কঠোর অভিযান ও আইনি পদক্ষেপ না হলে চট্টগ্রামসহ সারাদেশে এ ধরনের প্রতারক চক্র আরও ভয়ংকর রূপ নিতে পারে।এমনটি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

সর্বশেষ

আরও খবর >

- Advertisement -Newspaper WordPress Theme