back to top

[the_ad id="407"]

শীতের দাপটে থমকে যাচ্ছে পাহারের জনজীবন

মোঃ রিয়াজ আহম্মদ লংগদু(রাংগামাটি)

হাড় কাঁপানো শীতের দাপটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে রাংগামাটি লংগদুর জনজীবন। কয়েক দিন ধরে চলা কনকনে শীতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শ্রমজীবী মানুষ—বিশেষ করে কৃষক, মৎস্যজীবী ও দিনমজুররা। শীত ও কুয়াশার কারণে স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হওয়ায় অনেকেরই জীবিকা কার্যত থমকে গেছে।

লংগদু উপজেলার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ জীবিকা নির্বাহ করেন কৃষি, মৎস্য শিকার ও দৈনিক শ্রমের মাধ্যমে। কিন্তু পৌষ মাসের শুরুতেই তীব্র শীত নেমে আসায় এসব পেশার মানুষ কাজে বের হতে পারছেন না। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তাঁরা।

আটারকছড়া এলাকার ৬০ বছর বয়সী আব্দুল মন্টু মিয়া বলেন,এই শীত এত তীব্র যে এখন আর কাজ করতে পারছি না। সংসার চালানোও অনেক কঠিন হয়ে গেছে। এত শীত গত কয়েক বছরের মধ্যে পড়েছে কি না, তা মনে পড়ে না।

পার্বত্য রাংগামাটি লংগদুতে কিছু জায়গায় ধান রোপণের মৌসুম হলেও কনকনে শীতের কারণে কৃষকেরা মাঠে নামতে পারছেন না। কৃষক আবজাল হোসেন বলেন, ভোরবেলা এত ঠান্ডা থাকে যে ঘর থেকেই বের হওয়া যায় না। এই শীতে ধান রোপণের কাজ করা খুবই কষ্টকর।

মৎস্যজীবী শহিদুল বলেন,নদীতে মাছ ধরতে গেলে শীত অসহনীয় লাগে। জাল ফেললেও তুলতে গেলে হাত-পা কাঁপে। এভাবে শীত থাকলে কয়েক দিন কাজ বন্ধ রাখতে হবে। তখন আয়-রোজগার কীভাবে চলবে, ভাবতেছি।

এক শিশুর মা জান্নাতুল বলেন,আমার শিশুটি কয়েক দিন ধরে জ্বর ও ঠান্ডায় ভুগছে। রাতে আরও কষ্ট হয়। গরম কাপড়ের অভাব রয়েছে।

শীতের প্রকোপে সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন মানসিক ভারসাম্যহীন ও ছিন্নমূল মানুষরা। খোলা আকাশের নিচে কিংবা রাস্তাঘাটে বসবাস করা এসব মানুষের অনেকেরই পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র নেই। রাতের তীব্র ঠান্ডায় অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকলেও তাঁদের দেখভালের কার্যকর ব্যবস্থা নেই বলে স্থানীয়রা জানান।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিন ধরে সারা দেশেই তাপমাত্রা কমে এসেছে। পাহাড়ি এলাকায় বাতাস ও আর্দ্রতার কারণে শীতের তীব্রতা তুলনামূলক বেশি অনুভূত হচ্ছে। বিশেষ করে শ্রমজীবী অধ্যুষিত পাথরঘাটার মতো এলাকায় এই কনকনে শীত জনজীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে

সর্বশেষ

আরও খবর >

- Advertisement -Newspaper WordPress Theme