back to top

[the_ad id="407"]

টাকার সড়ক কাজে চরম অনিয়ম পাঁচ দিনের মাথায় উঠে যাচ্ছে মান্দা উপজেলা চত্বরের কার্পেটিং

আল আমিন | নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁর মান্দা উপজেলা চত্বরে সড়ক পাকাকরণ কাজে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কের কার্পেটিং কাজ শেষ হওয়ার এক সপ্তাহও না যেতেই উঠে যেতে শুরু করায় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের চোখের সামনেই এমন নিম্নমানের কাজ কীভাবে সম্পন্ন হলো—তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
প্রতিদিন উপজেলা চত্বরে বিভিন্ন সেবা নিতে আসা হাজারো মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করলেও কাজের মান নিয়ে সংশ্লিষ্ট কেউ দায় নিচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের দাবি, উপজেলা প্রশাসনের সামনেই যদি এ ধরনের কাজ হয়, তাহলে উপজেলার অন্যান্য এলাকায় ঠিকাদারি কাজের মান কেমন—তা সহজেই অনুমেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাত্র পাঁচদিন আগে কার্পেটিং করা হলেও হাতের টান ও পায়ের ঘষাতেই উঠে যাচ্ছে রাস্তার বিভিন্ন অংশ। কোথাও রেজিংয়ের মান অত্যন্ত নিম্নমানের, কোথাও কার্পেটিংয়ের পুরুত্ব প্রয়োজনের তুলনায় কম, আবার কোথাও যথাযথ রোলিং ছাড়াই কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
এলজিইডি অফিস সূত্র জানায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে মান্দা উপজেলা চত্বরে সড়ক কার্পেটিং কাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ঠিকাদার হিসেবে দায়িত্ব পান তানজিমুল ইসলাম। প্রকল্পটির মোট নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৬ লক্ষ ৪৭ হাজার ৭০১ টাকা। তবে কাজ শেষ হওয়ার আগেই রাস্তার বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কোথাও রাস্তার রেজিং উঠে পড়েছে, কোথাও দেবে গেছে রাস্তা, আবার কোথাও পুরোপুরি উঠে গেছে কার্পেটিং। এমন দৃশ্য দেখে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের পাশাপাশি হতাশাও লক্ষ্য করা গেছে।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী তানজিমুল ইসলাম বলেন,
“কাজ করতে গিয়ে অনেক লস হয়েছে। তারপরও কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। কিছু জায়গায় সমস্যা হয়েছে, সেগুলো ঠিক করে দেওয়া হবে।”
কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম অনিয়মের বিষয়টি আংশিকভাবে স্বীকার করে বলেন,
“কাজটি দেখভালের জন্য চারজন কার্যসহকারী ছিলেন। আমি নিজেওে ছিলাম। কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি আছে, সেগুলো ঠিক করে নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) মান্দা উপজেলা প্রকৌশলী আবু সায়েদ বলেন,
“ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। দ্রুত সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হবে। কাজ সম্পূর্ণ ও মানসম্মত না হলে কোনো বিল দেওয়া হবে না।”
এদিকে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।

সর্বশেষ

আরও খবর >

- Advertisement -Newspaper WordPress Theme