দেশে ভোটাধিকার সংকুচিত করে ভোটহীন নির্বাচন চাপিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে কার্যত প্রহসনে পরিণত করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে বর্তমান শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। রাঙামাটির লংগদু উপজেলার বগাচতরে আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি আবুল কালাম আজাদ।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেলে লংগদু উপজেলার ৪নং বগাচতর ইউনিয়নের শাহাদাত টিলা মসজিদের মাঠে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রূহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে লংগদু উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন,
“আজকের বাংলাদেশে মানুষ ভোট দিতে পারে না, মতপ্রকাশের স্বাধীনতাও সংকুচিত। নির্বাচন এখন জনগণের কাছে একটি প্রহসনে পরিণত হয়েছে। এই ব্যবস্থা বহাল রেখে কখনো গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।”
তিনি আরও বলেন,
“বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে বন্দি করে রেখে জনগণের গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—নিপীড়ন ও দমন-পীড়নের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে চিরতরে হত্যা করা যায় না।জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত বিএনপির আন্দোলন চলবে। রাজপথেই এই লড়াইয়ের চূড়ান্ত ফয়সালা হবে।”
দোয়া মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ গাফফার চেয়ারম্যান এবং সঞ্চালনা করেন ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মোঃ জসিম।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি জেলা বিএনপির নির্বাহী সদস্য মোঃ শাহ আলম মুরাদ, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম এ হালিম, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মোঃ ইউনূস, ৭নং লংগদু ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নাছির উদ্দিন, উপজেলা সাইবার দলের সভাপতি মোঃ রিয়াজ আহ্মদসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
বক্তারা বলেন, নিরপেক্ষ সরকার, স্বাধীন ও কার্যকর নির্বাচন কমিশন এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত সংসদ ছাড়া দেশে টেকসই স্থিতিশীলতা ফিরবে না। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পাশাপাশি সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তারা।
অনুষ্ঠান শেষে বেগম খালেদা জিয়ার রূহের মাগফিরাত, দেশের মানুষের মুক্তি এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা ইমরান হোসেন।
